যশোরে বিএনপি নেতা হত্যাকাণ্ডে সীমান্তজুড়ে বিজিবির কড়া পাহারা, ৬৩ চেকপোস্ট ও অতিরিক্ত ৭৫ টহল
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার এবং সীমান্ত অতিক্রম রোধে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 


আজ রোববার (৪ জানুয়ারী) বিকেলে বিজিবি-৬ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটে যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে শংকরপুর এলাকায় দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপরাধীদের সম্ভাব্য পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।


বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যশোর রিজিয়নের আওতাধীন যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি ও পাহারা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন অপরাধীর সীমান্ত অতিক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সীমান্ত ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।


এরই অংশ হিসেবে যশোর রিজিয়নের অধীন সাতটি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ৬৩টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহলের সঙ্গে অতিরিক্ত ৭৫টি বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব চেকপোস্ট ও টহলের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তি, যানবাহন ও গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


বিজিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুষ্কৃতকারীকে আটক না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশরাফুল হক, পিবিজিএম, পিএসসি, জি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


এদিকে বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় যশোর জেলাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করবে, এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।