তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর হুমকিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সিরাজদিখানের এক ব্যক্তি
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর একের পর এক হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার অভিযোগ তুলেছেন এক ব্যক্তি ও তার সন্তানরা। নিজের ও সন্তানের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


অভিযোগকারী মাহামুদ হাসান (৪৩), মৃত বাছের বেপারীর সন্তান। তিনি সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে শরিয়ত মোতাবেক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাস্তা ইউনিয়নের দরিগাঁও গ্রামের শাহজাহানের কন্যা তাছলিমা বেগম (৩৫) এর সঙ্গে মাহামুদ হাসানের বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ ও মতবিরোধের কারণে তাদের সংসারজীবন অশান্ত হয়ে ওঠে।


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংসার চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে বাবার বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে তাছলিমা বেগম অভিযোগকারীর কাছ থেকে আনুমানিক ১৮ লাখ টাকা এবং ৭ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। পরবর্তীতে এসব টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে দাম্পত্য কলহ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।


একপর্যায়ে গত ১৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আদালত ও কাজী অফিসের মাধ্যমে মাহামুদ হাসান তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তালাকের নোটিশ প্রেরণ করা হয়।


অভিযোগে আরও বলা হয়, তালাকের নোটিশ পাওয়ার পরও তাছলিমা বেগম পুনরায় অভিযোগকারীর বাড়িতে অবস্থান করতে থাকেন এবং বিভিন্নভাবে তাকে ও তার সন্তানকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। এমনকি গোপন সূত্রে তিনি জানতে পারেন, তার ছেলে সন্তানের ক্ষয়ক্ষতির পরিকল্পনাও করা হতে পারে।


মাহামুদ হাসান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, 'তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী অজ্ঞাত লোকজনের মাধ্যমে তার কিংবা তার সন্তানের ক্ষতি করতে পারে অথবা নিজে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।'


এমন পরিস্থিতিতে নিজের ও সন্তানের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে তিনি শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের কাছে আইনানুগ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।