যশোরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপি নেতা নিহত
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

যশোরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আলমগীর হোসেন (৫৩) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত গাড়িতে তাকে গুলি করা হয়। কে বা কারা কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে প্রাথমিকভাবে তা জানা যায় নি। 


নিহত আলমগীর হোসেন শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে। 


যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন জমি কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। সন্ধ্যার পর যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিজের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথিমধ্যে বাড়ির অদূরে শংকরপুর ইসহাক সড়কে পিছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুজন চলন্ত অবস্থায় গুলি করে পালিয়ে যায়। এসময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 


হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার বিচিত্র মল্লিক জানান, নিহতের মাথার দুপাশে দুটি গুলির চিহ্ন আছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে নিহতের বড়ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যার পর আলমগীর একটি মোটরসাইকেলে চড়ে বটতলা থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। তিনি হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে পৌঁছালে কে বা কারা তাকে গুলি করে। সংবাদ পেয়ে তিনি সদর হাসপাতালে এসে তার ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান।


নিহতের ছোট ভাই আবু মুসা বলেন, "ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। ইসহাক সড়কে ঢোকার পরে পিছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুইজন তাকে গুলি করে। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। আমার ভাইয়ের ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই। রাজনৈতিক কোন শত্রুতার তথ্য জানা নেই। কেন তাকে হত্যা করা হলো আমরা জানি না তবে আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"


এলাকাবাসী জানায়, আলমগীর হোসেন অনেক আগে থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি পেশাগত জীবনে এলাকায় জমি কেনা-বেচায় জড়িত। ছোটভাই কামরুজ্জামান তার এই ব্যবসায়ের পার্টনার। তিনি এলাকায় খুব সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে গরিব-দুঃখি মানুষ তার কাছ থেকে অনেক উপকৃত হয়েছেন।


এদিকে আলমগীরের হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালে যান বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবুরুল হক সাবুসহ বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ। 


এসময় বিএনপির সাত নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানায়, নিহত আলমগীর হোসেন সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এবং নগর বিএনপির সাবেক সদস্য। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।


বিএনপি খুলনা বিভাগীয় সংগঠনিক সম্পাদক আনন্দে ইসলাম অমিত বলেন, 'অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ড কাম্য না। এখনো আইনশৃঙ্খলা অবস্থার উন্নতি না‌ ঘটালে এ ধরণের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বাড়বে।


এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মমিনুল হক জানান, শংকরপুর ইসহক সড়কে বিএনপি নেতাকে গুলি করা হয়। তার কপালে ও মাথায় দুটি গুলি লেগেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানার এবং আসামি আটকের চেষ্টা করছে।