দিরাইয়ে মাত্র ৩৪১ মিটার বাঁধে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ: জনমনে প্রশ্ন
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় একটি বাঁধ সংস্কার প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


জানা যায়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতের (কাবিটা) আওতায় সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগ–২ (বাপাউবো), সুনামগঞ্জের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দিরাই উপজেলার চাপতির হাওর উপপ্রকল্প এলাকায় একটি ডুবন্ত বাঁধের ভাঙন বন্ধ ও পুনঃআকৃতিকরণ কাজ অনুমোদন দেওয়া হয়।


প্রকল্প অনুযায়ী, দিরাই থানার অন্তর্গত শ্যামারচর গ্রামে ৫২.০৫০ কিলোমিটার থেকে ৫২.৩৯১ কিলোমিটার পর্যন্ত মোট ০.৩৪১ কিলোমিটার (৩৪১ মিটার) ডুবন্ত বাঁধ সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৯ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৩ টাকা। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয় এবং তা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে অনুমোদিত হয়।


মাত্র ৩৪১ মিটার বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এই ব্যয় কতটা যৌক্তিক। স্থানীয়দের মতে, কাবিটা প্রকল্পে এত স্বল্প দৈর্ঘ্যের কাজে এ ধরনের বরাদ্দ সাধারণত দেখা যায় না। প্রকল্পের মাটি ভরাটের পরিমাণ, বাঁধের উচ্চতা-প্রস্থ, শ্রম ব্যয় ও অন্যান্য কারিগরি বিবরণ জনসম্মুখে প্রকাশ না হওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।


এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রূপকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য। তিনি দাবি করেন, পিআইসির সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তি বিগত সরকারের সময় বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান।
ওই ইউপি সদস্য বলেন, “যারা এই পিআইসি গঠন করেছে, তাদের অতীত কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় নানা অভিযোগ রয়েছে। তাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”


এ বিষয়ে দিরাই উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি সার্ভেয়ার পর্যায়ের কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে হয়ে থাকতে পারে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাবে না।


স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়া, ব্যয় নির্ধারণ এবং কাজের গুণগত মান যাচাইয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা প্রকল্পের পূর্ণ বিল অব কোয়ান্টিটি (বিওকিউ) প্রকাশ, নিরপেক্ষ কারিগরি অডিট এবং প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।