কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের চোরাচালান-মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে: ভারতীয় গরু, শাড়ি ও মদ এবং বিপুল পরিমাণ ঔষধ জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (৩১ডিসেম্বর) দুপুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি।
বিজিবি সুত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১৩ টায় ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর ক্যাম্পের টহলরত বিজিবির সদস্যরা পশ্চিম রামখানা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান পরিচালনা কালীন সময়ে কতিপয় সন্দেহ জনক ব্যক্তিদের গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবির টহল দলের সদস্যরা ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী চালিয়ে ভারতীয় সিগনেচার মদ ১৮ বোতল, হ্যাপি গোল্ট মদ ২০ বোতল, বিয়ার ৯ বোতল, ভারতীয় শাড়ি ৯ পিস এবং বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় ঔষধ জব্দ করে ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়।
অন্য দিকে বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ক্যাম্পের সদস্যরা উপজেলার চওড়া বাজার এলাকায় বিজিবি’র টহলদল বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান পরিচালনার সময় সন্দেহজনক ব্যক্তিদেরকে গরুসহ আসতে দেখে টহলদল উক্ত গরুর কাগজপত্র দেখাতে বললে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। এছাড়াও উক্ত গরু চোরাচালান এর মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা হয়েছে বলে প্রমানিত হয়। পরবর্তীতে উল্লেখিত ৩ টি গরু জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত ভারতীয় গরু ৩টির সিজার মুল্য ৩, ৯০, ০০০ টাকা, ভারতীয় মদ ৩৮ বোতল, যার সিজার মূল্য ৫৭,০০০ টাকা, বিয়ার ৯ বোতল, যার সিজার মুল্য ১৩, ৫০০ টাকা, ভারতীয় শাড়ি ৯ পিস, যার সিজার মূল্য ৯০, ০০০ টাকা, বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় ঔষধ, যার সিজার মূল্য ১,০৭,০০০ টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ৬ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়াও মাদক ও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ঠ চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, “দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

