গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার দক্ষিণ খাইলকুর এলাকায় অবস্থিত শ্রম কল্যাণ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানিসহ নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরপরই এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্কুল প্রাঙ্গণ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে উত্তেজিত জনতার কারণে পুলিশ প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়।
একপর্যায়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যান। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
অভিভাবকরা অভিযোগ করে জানান, শিক্ষক আরিফুল ইসলাম নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি স্কুলে স্বেচ্ছাচারিতা চালানোর পাশাপাশি একাধিক মেয়ে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, হান্নান গ্রুপের কর্ণধার সামছুদ্দিন দক্ষিণ খাইলকুর এলাকায় প্রায় আড়াই বিঘা আয়তনের একটি সরকারি খাস পুকুর ভরাট করে দখল করেন। সেই দখলকৃত জমিতেই শ্রম কল্যাণ নামের ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে গাছা থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

