প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
চবিতে জিয়াউর রহমানের নামে হল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে: উপাচার্য
মো. রাব্বি হোসেন, চবি ||
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি হল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বেলা ১১টায় উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এটি একটি দর্শন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত এ দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা। এর মূল কথা হলো, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান ও দর্শনের যথাযথ মূল্যায়ন করা আমাদের দায়িত্ব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সুন্দর, সমৃদ্ধ ও গতিশীলভাবে এগিয়ে নিতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে মতভেদ, ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমান দূরে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি উপাচার্য হিসেবে সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন।সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই জাতি ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনাকে স্মরণ করেছে। ২০২৪ সালেও দেশের মানুষ যখন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে আশঙ্কা করেছিল, তখন ৭ নভেম্বরের চেতনা তাদের অনুপ্রাণিত করেছে।তিনি আরও বলেন, দেশকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয় থেকেই এ চেতনাকে ধারণ করা হয়েছে। ৭ নভেম্বরের কথা স্মরণ হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও অনিবার্যভাবে স্মরণে আসে। কারণ, দেশের মানুষ, ছাত্র, জনতা ও সৈনিক ঐক্যবদ্ধ হলেই বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটে।উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সাধারণ সৈনিক ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মত ও পথের অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রতিষ্ঠা।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। এতে আরও বক্তব্য দেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর, শাহজালাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জহুরুল আলম, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. আবু নছর মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ, চবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা