প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
এলপিজির দাম বৃদ্ধির পেছনে জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ
মো. বদরুল আলম বিপুল , সখিপুর ||
জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেটের প্রভাবে দেশে এলপিজি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক আওয়াল মাহমুদ। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গার্মেন্টস শ্রমিকদের যৌক্তিক মজুরি বৃদ্ধি এবং তাদের জন্য রেশন ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কচুয়া বাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।আওয়াল মাহমুদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও বাংলাদেশে এর দাম বেড়েছে। তাঁর অভিযোগ, এর পেছনে জ্বালানি খাতের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় সরকার চাইলেও দ্রুত বিকল্প আমদানিকারক তৈরি করতে পারছে না। এ সুযোগে ব্যবসায়ীদের একটি গোষ্ঠী নিজেদের মুনাফা ও বিভিন্ন দাবি আদায়ে সরকারকে অনেকটা জিম্মি করে রেখেছে।তিনি বলেন, এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলপিজির আমদানি ব্যয়, বাজারজাতকরণ খরচ এবং ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এতে ব্যবসায়ীরা ন্যায্য মুনাফা পাওয়ার পাশাপাশি ভোক্তারাও সহনীয় দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পারবেন।জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে আওয়াল মাহমুদ বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে বাসাভাড়া ও পুষ্টিকর খাবারের খরচ মেটাতে অনেক শ্রমিককে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শ্রমিকদের বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য যৌক্তিক মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি।এ জন্য মালিকপক্ষ, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি মজুরি কমিশন বা কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য রেশন কার্ড, ভর্তুকিতে আবাসন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সরকারের ফ্যামিলি কার্ডকে রেশন কার্ড হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ারও প্রস্তাব করেন তিনি।শ্রমিকদের দাবি-দাওয়াকে ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা না করে সেগুলোর যৌক্তিকতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে আওয়াল মাহমুদ বলেন, শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব নয়। রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে যাবে। তাই শ্রমিক, মালিক ও সরকার—তিন পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগেই এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা