প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
কুড়িগ্রামে শিক্ষকদের হাতে অবরুদ্ধ মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারী
কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক ||
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ছয় মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগে একটি মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানকে অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ করে রেখে কক্ষের সামনে বারান্দায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।বিক্ষোভকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, নিয়োগসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সেই বিরোধের জেরে মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা গত ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। বারবার বেতনের বিষয়ে তাগাদা দিয়েও কোনো সমাধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ইমরুল কায়েস বলেন, সুপার ও অফিস সহকারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগসংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর। ছয় মাস ধরে তারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। অথচ মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত। শিক্ষকদের বেতন আটকে রাখা অমানবিক। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তারা সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করেছেন। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবরুদ্ধ রাখা হবে বলেও জানান তিনি।সহকারী শিক্ষিকা রত্না পারভিন বলেন, দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেও প্রাপ্য বেতন না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন।বেতন-ভাতা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তারা অবরুদ্ধ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা হলে তারা আবারও স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রমে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম।অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান বলেন, তিনি শিক্ষকদের বেতন আটকে রাখেননি। বেতন-ভাতা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান সেসব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়েছেন। এ কারণে বেতন-ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।তবে সুপারের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন পরিশোধ করা হলে তাতে তার কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। সুপার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মাদ্রাসার সভাপতিকে অবহিত করা হয়েছে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা