প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
আলোচনার পথ বন্ধ করে হয়রানি কোনো সমাধান হতে পারে না: অধ্যক্ষ আজিজী
নিউজ ডেস্ক ||
আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। কিন্তু আলোচনার পথ পরিহার করে হয়রানির মাধ্যমে সংকট আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।তিনি বলেন, “আমরা কোনো ধরনের সংঘাত চাই না। চাই শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণে আন্তরিক উদ্যোগ এবং সম্মানজনক সমাধান। দুঃখজনকভাবে মনে হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলোচনার পথ পরিহার করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হয়রানি করার পথ বেছে নিয়েছে।”অধ্যক্ষ আজিজীর বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত নোটিশ জারির পর শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত নোটিশ প্রত্যাহার, শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ এবং দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।অধ্যক্ষ আজিজী বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরা এবং অধিকার আদায়ের পক্ষে কথা বলা কোনো অপরাধ হতে পারে না। শিক্ষকদের সমস্যা ও দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। তদন্ত নোটিশ ও হয়রানিমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হলে শিক্ষকসমাজের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়বে। তাই পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।এদিকে, শিক্ষকদের তিন দফা দাবি আদায়ে আগামী ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। কর্মসূচিতে দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।জোটের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলির আদেশ দ্রুত জারি, নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদানের নির্দেশনা এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে মূল বেতনের শতভাগ উৎসব ভাতা কার্যকর করা। শিক্ষক নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক ও পেশাগত নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।এর আগে গত ৩১ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। একই দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচি থেকে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের পাশাপাশি অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে জারি করা তদন্ত নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।জোটের পক্ষ থেকে তদন্ত নোটিশ প্রত্যাহারে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. শামীউল ইসলাম প্রামাণিককে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি পূরণ না হলে অধিদপ্তরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা।অন্যদিকে, অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে গত ২৯ অক্টোবর তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের আদেশে কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।ময়মনসিংহের সদর উপজেলার কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য মো. আতাউর রহমানের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগে অধ্যক্ষের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে সনদ ব্যবহারের বৈধতা এবং আর্থিক অনিয়মসহ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।অধ্যক্ষ আজিজীর দাবি, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ায় হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি শিক্ষকদের দাবি নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা