প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীকে পৌরসভা করার উদ্যোগ, আশায় স্থানীয়রা
নূর আলম শেখ, গোপালগঞ্জ ||
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়ায় পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। তবে পৌরসভা গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এখনো বাকি।১৯০৮ সালে কাশিয়ানী থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এ জনপদ একসময় ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।পার্শ্ববর্তী মুকসুদপুর উপজেলা ২০০০ সালে পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার পর কাশিয়ানীকেও পৌরসভা করার দাবি আরও জোরালো হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়বে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।সম্প্রতি কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ নতুন গতি পেয়েছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম নির্বাচনী প্রচারণায় কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।পৌরসভা গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত নাগরিক সেবা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কাশিয়ানীকে পৌরসভায় রূপান্তর করা প্রয়োজন।বরাশুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইরামুজ্জামান মোল্লা বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই কাশিয়ানীর আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকাটি উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিকদের জীবনমান ও সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন ঘটবে। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইরিন জামান ইরা বলেন, কাশিয়ানী একটি ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো উপজেলা। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার আলোচনা থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সংসদ সদস্য এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা আশাবাদী। এ উদ্যোগের জন্য তিনি সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকা কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগকে উপজেলাবাসী স্বাগত জানাচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে এটি সংসদ সদস্যের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও ধন্যবাদ জানান।কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মিয়া বলেন, কাশিয়ানীকে পৌরসভায় রূপান্তরের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কাশিয়ানী ঐতিহ্যবাহী একটি জনপদ। পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকার মানুষের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করা সময়ের দাবি। এটি তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও অংশ। পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবার সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ঘিরে কাশিয়ানীর মানুষের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করা হবে। এতে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা