প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
রায়পুরে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা, ঘটনাস্থলে ছিলেন না দাবী স্বাক্ষীর!
মো: আবু যর গিফারী, লক্ষ্মীপুর ||
লক্ষ্মীরপুরের রায়পুরে চরবংশী মোবারকিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবুল কাশেম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মারামারির অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে মামলার তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা বাবুল মাঝি দাবি করেছেন, ঘটনার দিন তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না; সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মামলার আসামিদের দাবি, এজাহারে উল্লেখ করা ৫ অক্টোবর তাঁদের বাড়িতে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় মাওলানা আবুল কাশেম, তাঁর ছেলে আব্দুল আহাদ (২৩), ভাই জাকির, জাকিরের ছেলে তামিম (২০) ও কাউসার, স্ত্রী রেহানা, মেয়ে হাবিবা (২৩) এবং মোখলেস বেপারীর মেয়ে ছামিয়াকে (১৯) আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক মাওলানা আবুল কাশেম বলেন, ৫ অক্টোবর তাঁদের বাড়িতে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সময় তিনি স্থানীয় নাইয়া বাড়ি জামে মসজিদে ছিলেন এবং তাঁর ছেলে আব্দুল আহাদ রায়পুর শহরের নতুন বাজার এলাকায় তাঁদের ভাড়া বাসায় ছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও বাবুল মাঝি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন।
আরেক আসামি জাকির হোসেন বলেন, মামলায় উল্লেখ করা তারিখে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। চিকিৎসার জন্য মাইজদী সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
জাকিরের স্ত্রী রেহানা বলেন, ৫ অক্টোবর তাঁর স্বামী অসুস্থ থাকায় তিনি ও তাঁর ছেলে তামিম তাঁকে দেখতে মাইজদী সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
এদিকে, মামলার তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা বাবুল মাঝির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মামলার বিষয়ে কিছু সত্যি না হলে কি আর মামলা হয়?” তবে ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, সেদিন তিনি সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে বাড়িটির আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, ৫ অক্টোবর ওই বাড়িতে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা জানেন না।
মামলার বাদী শারমিন আক্তার রিমার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও এজাহারে উল্লেখ করা তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল আউয়াল রাছেল বলেন, তাঁর মক্কেলদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় আসামিরা ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং ৫ অক্টোবর ওই বাড়িতে কোনো মারামারির ঘটনাও ঘটেনি। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাঁরা আদালতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করবেন বলে জানান তিনি।
তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে বাদীপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা