প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
লালমনিরহাট সীমান্তে বুড়ির পূজায় মিলনমেলা হলো না, হতাশ হয়ে ফিরলেন বাংলাদেশি হাজারো মানুষ
অনীল চন্দ্র রায়, কুড়িগ্রাম ||
লালমনিরহাটের মোগলহাট সীমান্তে ঐতিহ্যবাহী বুড়ির পূজা (কালীপূজা) ঘিরে এবার বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মিলনমেলা বসেনি।সীমান্তে বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারির কারণে জিরো লাইনে যেতে পারেননি বাংলাদেশ থেকে আসা হাজারো মানুষ। ফলে বাংলাদেশি ভক্ত ও আত্মীয়স্বজনদের অংশগ্রহণ ছাড়াই সীমিত পরিসরে পূজা উদ্যাপন করেছেন ভারতীয়রা।জানা গেছে , পূজার পুরোহিত বাংলাদেশ থেকে আসেন, আর পূজায় অংশ নেন ভারতের ভক্তরা। প্রতিবছর এই আয়োজন ঘিরে সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের দেখা পাওয়া, কুশল বিনিময় এবং একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হয় এই পূজাকে কেন্দ্র করে।কিন্তু এবার কঠোর সীমান্ত নিরাপত্তার কারণে সেই পরিচিত দৃশ্য দেখা যায়নি। পূজাকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় মানুষের ভিড় থাকলেও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার আশা পূরণ হয়নি অনেকের। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাঁদের। সেই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই মিলনমেলায় অংশ নিতে এসে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা নারী-পুরুষেরা।সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ও আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তসংলগ্ন কুমারপাড়া-দিঘলটারী এলাকার ৯২৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার দরিবস গ্রামের জারিঝল্লা এলাকায় এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর বুড়ির পূজা উপলক্ষে সীমান্তের দুই পাশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বাংলাদেশ থেকে পুরোহিত গিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন, আর ভারতের ভক্তরা পূজায় অংশ নেন।এ উপলক্ষে দুই দেশের মানুষের মধ্যে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, কুশল বিনিময় ও আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হয়। তবে এবার কঠোর নিরাপত্তার কারণে সেই চিরচেনা মিলনমেলা আর হয়ে ওঠেনি।লালমনিরহাট শহরের বাসিন্দা গোবিন্দ চন্দ্র রায় ও শ্যামল চন্দ্র রায় বলেন, “সকালে এসে দেখি, বিজিবি কাউকে সীমান্তের ওপারে যেতে দিচ্ছে না। বোনদের সঙ্গে দেখা করার অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম। বহু বছর পর তাঁদের সঙ্গে দেখা হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু সেই আশা পূরণ হলো না। বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।তাঁরা আরও বলেন, খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকা থেকেও অনেক নারী-পুরুষ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কেউ দেখা করার সুযোগ পাননি।বাংলাদেশি পুরোহিত বিকাশ চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, “প্রতিবছর আমি সেখানে গিয়ে পূজা করি। হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রাঙ্গণ দুই দেশের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। কিন্তু এবার বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।”ভারতীয় পূজারি জ্যোতিষ চন্দ্র রায়ের বক্তব্য এ বিষয়ে জানা সম্ভব হয়নি। একইভাবে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে আসা দূর্জয় রায় ও শ্রীমতি সুবর্ণা রানীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও আব্দুল হানিফ বলেন, “এই মেলায় হিন্দু-মুসলিম সবাই আসেন। আমরাও প্রতিবছর মেলায় যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এবার বিজিবি কাউকে যেতে দিচ্ছে না। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সীমান্তে কঠোর নজরদারি দেখেছি। আমাদের জানা মতে, সকাল থেকেই প্রায় পাঁচ হাজার নারী-পুরুষ মেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে এখানে এসেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে সবাইকে ফিরে যেতে হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল মিয়া ও বাচ্চু মিয়া বলেন, “ভারতের আয়োজক কমিটির মধ্যে কিছু অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল বলে শুনেছি। এ ছাড়া মিলনমেলার সুযোগ নিয়ে বিএসএফ কয়েক হাজার মানুষকে বাংলাদেশে পুশইন করতে পারে—এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি বিজিবির নজরে আসার পর সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। পূজার কয়েক দিন আগে থেকেই মোগলহাট সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশিদের মেলায় যেতে নিষেধ করা হচ্ছিল। সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিজিবি ও আনসার সদস্যদের কঠোর নজরদারি ছিল।সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন মোগলহাট ক্যাম্পের টহল ইনচার্জ শামীম ইসলাম বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে আমরা সীমান্তে টহল জোরদার করেছি। কোনো বাংলাদেশি যাতে ভারতে আয়োজিত মেলায় যেতে না পারেন, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা