প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও আধুনিক পার্কের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট ||
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের অমর স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নির্মিত হলো সুউচ্চ ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই স্মৃতিস্তম্ভ এবং আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ওসমানী উদ্যান প্রাঙ্গণে পৌঁছান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইতিহাসের এক অনন্য আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যখন প্রধানমন্ত্রী জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহরিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’-এর নামফলক উন্মোচন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।পরে প্রধানমন্ত্রী আধুনিকায়নকৃত পুরো ওসমানী উদ্যান ঘুরে দেখেন এবং উদ্যানের পাশেই নবনির্মিত গ্রন্থাগারটি পরিদর্শন করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।৯০ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভে খোদাইকৃত ৮৩৪ শহীদের নামরাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে ৯০ ফুট উচ্চতার নান্দনিক এই ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী ৮৩৪ জন শহীদের পবিত্র নাম অত্যাধুনিক লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে খোদাই করা হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে। এর ঠিক সামনে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।স্মৃতিস্তম্ভটির স্থাপত্যশৈলীতে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস। এর বাইরের অংশে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরের অংশে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রাখা হয়েছে। এই ভাস্কর্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাস মূর্ত হয়ে উঠেছে।সবুজ ও আধুনিক নাগরিক বিনোদনে রূপান্তর হলো ওসমানী উদ্যানপুরাতন ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে উদ্যানটিকে রাজধানীবাসীর জন্য একটি নিরাপদ, সবুজ ও বিশ্বমানের আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় উদ্যানের পুরোনো জলাশয়টি সংস্কারের পাশাপাশি আরও পাঁচটি নতুন জলাশয় বা লেক খনন করা হয়েছে। উদ্যানের পুরনো গাছপালা অক্ষত রেখে নতুন করে বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে। নগরবাসীর শারীরিক কসরত ও বিনোদনের জন্য রয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ), আধুনিক ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, পার্কিং জোন, গণশৌচাগার ও দৃষ্টিনন্দন ঘাট। পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া দুই স্তরে বিন্যস্ত এই উদ্যানের সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের বিশেষ পথ তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা