প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
মুকসুদপুরে ইতালিতে পাঠানোর নামে তিন তরুণ নিখোঁজ, ১ কোটি ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ।সন্তানদের ফেরত চান স্বজনেরা
কাজী মো: ওহিদুল ইসলাম, মুকসুদপুর ||
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ইতালিতে পাঠিয়ে ভালো চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তিন তরুণের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোশারফ শেখ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, তাঁদের সন্তানদের লিবিয়ায় নেওয়ার পর কয়েক মাস ধরে তাঁদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। এ ঘটনায় মোশারফ শেখসহ চারজনকে আসামি করে গোপালগঞ্জের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন এক ভুক্তভোগী তরুণের মা।মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের দিগনগর গ্রামের শাহানশাহ ফকিরের স্ত্রী শামীমা খানমের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার রাজেশ্বরদী গ্রামের মৃত তমিজউদ্দিন শেখের ছেলে মোশারফ শেখের। সেই সম্পর্কের সূত্রধরে মোশারফ তার ছেলে সজিবুল আলমকে ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে বৈধভাবে ইতালিতে পাঠিয়ে ভালো চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন শামীমা খানম। প্রথমে ওই প্রস্তাবে রাজি না হলেও ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরে অর্থ দিতে সম্মত হন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী,২০২৫ সালের ১৩ জুন প্রথম দফায় মোশারফ শেখকে ৩ লাখ টাকা দেন শামীমা খানম। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৫- ০৬-২০২৫ইং তারিখে সজিবুল আলম কে ইতালিতে পাঠানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে নিয়ে যান মোশারফ শেখ। পরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তাকে ৩০-০৬-২০২৫ইং তারিখে প্রথম ভারতে এরপর শ্রীলংকা, মিশর হয়ে তাকে লিবিয়া নেয় হয়েছে। এরপর মোশারেফ শেক গং সজিবুল আলমের পরিবারের কাছে যেয়ে এখন তাকে লিবিয়াম নেয়া হয়েছে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে গেম দেয়া হবে বাকি টাকা দাবি করে। কথা মোতাবেক ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তার বাড়িতে বসে আরও ১৭ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত টাকা নেয়ার পর সেখানে সজিবুলকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য মোশারফের কাছে অনুরোধ জানালে ২০২৬ সালের ১০ মে আরও পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সজিবুলের মা। তবে টাকা দেওয়ার পরও সজিবুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়নি বলে দাবি পরিবারের। গত ৮ সেপ্টেম্বর মোশারফ শেখের বাড়িতে গিয়ে ছেলেকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন শামীমা খানম ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন। এ সময় ছেলেকে ফেরত পেতে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সজিবুলের মা-বাবার আশঙ্কা, তাঁদের ছেলেকে এখনো আটকে রাখা হয়েছে, অথবা তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো অঘটন ঘটেছে। তবে সজিবুলের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত নন।অভি গোপালগঞ্জের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মোশারফ শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে সজিবুলের মা শামীমা খানম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।মামলা নং মানব পাচার-৭০/২৬। যার ধারা- মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন আইন ২০২৬ এর ৬(১)/৭(১)/৮(১)/১০(১)। এদিকে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও দুই তরুণের পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজেশ্বরদী গ্রামের লিকু মাতুব্বরের ছেলে আবু তাহেরের পরিবারের কাছ থেকে ৩৬ লাখ টাকা এবং মৃত সিরাজুল শেখ ও সুফিয়া বেগমের ছেলে তাইজুদ্দিন শেখের পরিবারের কাছ থেকে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তাঁদেরও লিবিয়ায় নেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।পরিবারগুলোর অভিযোগ, সজিবুল আলম, আবু তাহের ও তাইজুদ্দিন শেখের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে তাঁদের কোনো যোগাযোগ নেই। তিন তরুণের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনেরা।ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন তরুণকে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে মোট প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা সন্তানদের দ্রুত সন্ধান ও দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এবিষয়ে অভিযুক্ত মোশারফ শেখের বাড়ীতে সাংবাদিকরা গেলে তাকে বাড়ীতে পায়নি। তার ব্যবহৃত ০১৭৩৩২৯৯০৮৪ মুঠেফোনে কয়েক চেষ্টা করলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা