প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম চেষ্টায় সিভিল জজ, ইবির আমজাদের সাফল্যের গল্প
মাওয়াজুর রহমান , ইবি ||
সাধারণ একটি পরিবারে জন্ম। বেড়ে ওঠা পঞ্চগড়ের গ্রামীণ পরিবেশে। সীমিত সুযোগ সুবিধার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিয়মিত প্রস্তুতি, শেষ পর্যন্ত সেই অধ্যবসায়ের ফল মিলেছে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরিক্ষায়। প্রথমবার ভাইভাতে অংশগ্রহণ করে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন আমজাদ হোসেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ছিলেন। পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বলেয়াপাড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া আমজাদের শৈশব কেটেছে ছয় সদস্যের পরিবারে। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সময় পারিবারিক মূল্যবোধ, প্রতিবেশীদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। পরিবার থেকেই পেয়েছেন সততা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের শিক্ষা।আমজাদ হোসেন বলেন, আমি একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছি। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু অর্থনৈতিক ও বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক সময় সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বই বা উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও পরিকল্পনা করে চলতে হয়েছে। তবে পরিবারের সমর্থন, আল্লাহর রহমত এবং নিজের অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সেসব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করার চেষ্টা করেছি। এসব অভিজ্ঞতা আমাকে সময়ের মূল্য, পরিশ্রমের গুরুত্ব এবং সীমিত সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহারের শিক্ষা দিয়েছে। আমি মনে করি, সংকট মানুষকে আরও শক্তিশালী, বাস্তববাদী ও দায়িত্বশীল করে তোলে। আমজাদ হোসেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দ্বিতীয় বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চান্স পায়। আইন নিয়ে পড়ার উদ্দেশ্যই তিনি সায়েন্স গ্রুপ ছেড়ে মানবিকে পরিক্ষা দেন। অবশেষে ইবির বি ইউনিটে ১৭ তম হয়। এতে তার সুযোগ হয় আইন বিভাগে অধ্যায়ন করার। এর পর থেকেই তার বিচারক হওয়া স্বপ্ন তৈরি হয়। তিনি বলেন, আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করার পর থেকেই বিচার বিভাগের প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন সুসংহত করার যে মহৎ দায়িত্ব বিচারকদের ওপর ন্যস্ত, তা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই বিচারক হওয়ার লক্ষ্য স্থির করি। এবং আমি প্রথম ভাইভাতেই সফল হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করি। এ সাফল্যের পেছনে মহান আল্লাহর পরিকল্পনা আর নিয়মিত প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের দোয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রথমে আইনের মৌলিক ধারণা ও গুরুত্বপূর্ণ ধারা আয়ত্ত করেছি, এরপর মামলার রায়, সাম্প্রতিক আইনগত বিষয় ও লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে নিয়মিত অনুশীলন ও রিভিশন করেছি। ভাইভার জন্য নিজের পরিচয়, শিক্ষাজীবন, সমসাময়িক বিষয় ও আইনগত প্রশ্ন নিয়ে অনুশীলন করেছি। যারা বিচারক হতে চায় তাদের উদ্দেশ্য আমজাদ বলেন, যাদের স্বপ্ন বিচারক হওয়া তাদের সাধনাটা থাকতে হবে প্রবল। স্বপ্নপূরণের জন্য কি করতে হবে সেটা নিজের মধ্যে শতভাগ ধারণ করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। যত বাধা আসুক, ব্যর্থতা আসুক এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে যাওয়া যাবে না যতক্ষণ সুযোগ থাকবে। অবশ্যই অনেক বেশি অধ্যবসায়ী হতে হবে, এটার বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। কম পড়াশোনায় আসলে সম্ভব নয়।আমজাদ হোসেন সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ, ন্যায়নিষ্ঠ ও মানবিক বিচার নিশ্চিত করতে চায়। বিচারপ্রার্থীর আর্থিক বা সামাজিক অবস্থান নয়, কেবল আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেওয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন তিনি।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা