প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরে ৬ সিএনজি স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অভিযান বন্ধে জ্বালানিমন্ত্রীর নির্দেশ
ডেস্ক রিপোর্ট ||
গাজীপুর জোনের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে যৌথ অভিযান চালিয়ে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানাসহ ছয়টি স্টেশনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এ অভিযান পরিচালনা করে।এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিএনজি স্টেশন সংশ্লিষ্ট নেতারা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করে তাঁদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, চলমান পরিস্থিতির কারণে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও নির্ধারিত সময়ে পণ্য রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে ডা. সৈকত, তানভীর, সাদাত ও হুমায়ুন রশিদ সুমনসহ একটি প্রতিনিধিদল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে তাঁর সুপারিশ নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যাগুলো তুলে ধরেন তাঁরা।প্রতিনিধিদলের দাবি, তাঁদের বক্তব্য শোনার পর জ্বালানিমন্ত্রী তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শককে মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে আপাতত অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া গাজীপুরের বিষয়টি নিয়ে দুদকের চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালকের (ডিজি) সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযান বন্ধে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অনুরোধ জানান মন্ত্রী।প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় বর্তমানে বেশ কিছু তৈরি পোশাক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে। এতে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে বিলম্ব এবং শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে।এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কফিল উদ্দিন বিজিএমইএর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিল্পকারখানার নিজস্ব সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সরবরাহের সরকারি অনুমতি পাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানানো হয়।বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। এ সময় পুরো পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।গাজীপুর-ময়মনসিংহ জোনাল কমিটির সভাপতি ডা. ওয়াসিউল হুদা সৈকত ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ সুমন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় পিএনজি ব্যবসায়ীদের কয়েকটি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।নির্দেশনাগুলো হলো- ১. বর্তমানে শুধু রাতে শিল্পকারখানার নিজস্ব মালিকানাধীন সিলিন্ডারের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় যাচাই করে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে।২. সরকারি নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ ও কম্প্রেসর চালানো বন্ধ রাখতে হবে।৩. গণপরিবহনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দিনের বেলায় কোনো সিলিন্ডারে গ্যাস দেওয়া যাবে না এবং দড়ি টানিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে না।বার্তায় আরও বলা হয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হবে না।সংশ্লিষ্ট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা