প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬
কুড়িগ্রামে জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে
অনীল চন্দ্র রায়, কুড়িগ্রাম ||
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার একটি আলিম মাদরাসায় তিনটি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতার ছেলেকে ২০ শতাংশ জমির বিনিময়ে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুই প্রার্থীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ।উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের রাজমাল্লী তালুয়াপাড়া হামিদিয়া আলিম মাদরাসায় গত ৫ সেপ্টেম্বর তিনটি পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া গোপন রাখা, পরীক্ষার স্থান ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, উমর মজিদ ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নানের ছেলে সুমনকে ২০ শতাংশ জমির বিনিময়ে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে সাদেকুর রহমানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষা মাদরাসার পরিবর্তে অধ্যক্ষের নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে ফলাফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে নামমাত্র প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তিনটি পদের বিপরীতে মাত্র ১৩ জন পরীক্ষার্থী দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।এলাকার বাসিন্দা এরশাদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রোস্তম আলী বলেন, মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠার পেছনে যাঁরা শ্রম, মেধা ও অর্থ ব্যয় করেছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বরং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।মাদরাসার জমিদাতা প্রয়াত আব্দুল জব্বারের নাতি আতিকুর রহমান বলেন, মাদরাসায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা শুনে তিনি আবেদন করতে চাইলে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান তাঁকে জানান, আবেদনের সময় শেষ হয়ে গেছে।নিয়োগের সময় মাদরাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আতাউর রহমান বকসী বলেন, নিয়োগ নিয়ে কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি। তবে জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি তাঁকেও কয়েকজন জানিয়েছেন। বিষয়টি কতটা সত্য, তা তিনি নিশ্চিত নন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, যথাযথ নিয়োগবিধি অনুসরণ করেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই ২০ শতাংশ জমি তিনি নিজের টাকা দিয়ে কিনেছেন।এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা