প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
নিজ বিভাগের শিক্ষককে নিয়ে বাজে মন্তব্য, ‘শিক্ষার্থীর ব্যবহার শিক্ষার্থীসুলভ নয়’ বললেন হল প্রভোস্ট
মো: তাছিন জায়েফ, গোবিপ্রবি ||
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) অপরাজিতা হলের প্রভোস্ট ড. রেহানা পারভীনের বিরুদ্ধে ‘অশালীন ও অপমানজনক ভাষায়’ কথা বলার অভিযোগ করেছেন অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রভোস্ট বলছেন,নিজ বিভাগের এক শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষার্থীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি তার আচরণ নিয়ে কথা বলেন।অভিযোগকারী আফসানা মিমি অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং অপরাজিতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।অভিযোগকারী শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগে বলেন, হলের একটি ঘটনার সময় প্রভোস্ট তার সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করেন। এ সময় তাকে ‘রাস্তার মেয়ে’ ও ‘বেয়াদপ মেয়ে’ বলে সম্বোধন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অপরাজিতা হলের প্রভোস্ট ড. রেহানা পারভীন বলেন, ঘটনার সূত্রপাত মূলত ওই শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় জানার বিষয়কে কেন্দ্র করে।তিনি বলেন, অপরাজিতা হল অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল হওয়ায় এখানে আসন সংখ্যা সীমিত। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি। তাই আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে হল প্রশাসন যথাসম্ভব নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এ জন্য বিভিন্ন বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়ের তথ্য নিয়ে প্রি-অ্যালটমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় ওই শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ কবে শেষ হবে তা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বর্তমানে তার ৫-১-এর পরীক্ষা চলমান। তখন তাকে জানানো হয়, তার বিভাগের শিক্ষক মুন্নি ম্যাম জানিয়েছেন, তাদের শিক্ষাবর্ষ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ড. রেহানা পারভীন বলেন, “এ সময় ওই শিক্ষার্থী শিক্ষকের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলে, ‘কোন কমনসেন্স থেকে এই কথাটা বলেছেন?’ নিজের বিভাগের একজন শিক্ষক সম্পর্কে একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য আসায় আমি তার আচরণ নিয়ে কথা বলি।”তিনি আরও বলেন, “তুমি একজন অনার্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী, অথচ তোমার ব্যবহার মোটেও শিক্ষার্থীসুলভ নয়।”ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে নামাজের রুম নিয়েও আগে কথা হয়েছিল বলে জানান প্রভোস্ট। তিনি বলেন, “একবার মেয়েরা আমাকে জানায়, তাদের নামাজের রুমটা নিচতলা থেকে উপরে দিলে ভালো হয়। শিক্ষার্থীদের চাওয়ায় আমি সিদ্ধান্ত নিই, নামাজের রুম যেখানে আছে তার বরাবর দুই তলায় নেবো। এই মেয়ে তখন ওই রুমে থাকতো এবং সে সরাসরি বলে উঠে, ‘এইখানে নামাজের রুম দেওয়া যাবে না, আমি এই রুম ছাড়বো না।’”এ ছাড়া ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অশোভন আচরণ, অসম্মান প্রদর্শন ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার বিষয়ে প্রক্টরের কাছে তদন্তপূর্ব আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন করবেন বলে জানান ড. রেহানা পারভীন।এই বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ রবি উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার কাছে আসছিল, আমি বলেছিলাম আগামীকাল সকালে আসো, আমি দেখব নে। তখন আমি ভিসি স্যারের সাথে মিটিংয়ে ছিলাম। এরপর আর আমার সাইন নেয়নি। আমাকে একটা কপি দিয়ে প্রক্টর অফিসে জমা দিয়েছে। এ ছাড়া বিভাগে অভিযোগপত্র জমা দেয়নি।”বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এস এম আহসান বলেন, “আমি অপরাজিতা হলের প্রভোস্টসহ অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি, অন্যান্য শিক্ষক এবং ওই অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে প্রক্টর দপ্তরে ডেকেছি। আশা করি, এর সুষ্ঠু সমাধান আসবে।”
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা