প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ব্রিজ আছে, সংযোগ সড়ক নেই: ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই ভরসা
অনীল চন্দ্র রায়, কুড়িগ্রাম ||
সেতু আছে, কিন্তু নেই সংযোগ সড়ক। ফলে সেতুতে ওঠানামা করতে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। বর্ষাকালে হাঁটুপানি ও কাদা পেরিয়ে চলাচলের পর সম্প্রতি সংযোগস্থলে বসানো হয়েছে বাঁশের চাটাই। তবে সেটিও অত্যন্ত খাড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কমেনি দুর্ভোগ; বরং বেড়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।উপজেলার রাজারহাট সদর ইউনিয়নের নাটুয়ামহল ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চেতনা গ্রামের সীমান্তবর্তী ছিঁড়ারপাড় খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ২৪ ফুট দীর্ঘ সেতুটি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ মাটির রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সেতুটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ২৯ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৫ সালের জুনে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ করা হলেও দুই পাশে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। ফলে নির্মাণের পরও সেতুটি স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। বর্ষাকালে সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়।সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংযোগ সড়কের স্থানে মাটি ভরাটের পরিবর্তে খাড়াভাবে বাঁশের চাটাই বসানো হয়। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ছয় ফুট উঁচু ও অত্যন্ত খাড়া ঢালের কারণে ওই চাটাই দিয়ে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব। এমনকি পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে।প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলো রানী বলে, “সাইকেল নিয়ে উঁচু ও খাড়া বাঁশের চাটাই বেয়ে সেতুতে উঠতে-নামতে খুব ভয় লাগে। অনেক সময় ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে।”চেতনা গ্রামের নয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আবু হানিফ বলেন, “সংযোগ সড়কে মাটি না থাকায় এতদিন স্কুলের শিক্ষার্থী ও হাটবাজারের মানুষকে কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়েছে। বারবার বলার পরও মাটি না দিয়ে বাঁশের চাটাই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই চাটাই দিয়ে অটোরিকশা, ভ্যান বা মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের চলাচলও কষ্টকর।”নাটুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, চেতনা, নাটুয়া, পোদ্দারপাড়া, নয়াবাড়ি, শামকালিয়া ও রামপাড়া—এই ছয় গ্রামের প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।রাজারহাট সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “সংযোগ সড়কে মাটি না থাকায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত মাটি ভরাট করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।”এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই কাজ শুরু হবে। স্থানীয়দের মাটি দিতে বাধার কারণে মূলত কাজটি আটকে ছিল। ঠিকাদার ভেকু (এস্কাভেটর) নিয়ে গেলেও স্থানীয় জটিলতার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সবার সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।”
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা