প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া নবজাতক রেখে ভাইভা দেয়া সুমাইয়া ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জাহিদের নাম উঠল তালিকায়
সাদী মোঃ হিমেল, পিরোজপুর ||
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের তালিকায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার গর্ভকালীন সময়েও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ও নবজাতক সন্তানকে রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া সুমাইয়ার নাম প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও একই তালিকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একই উপজেলার জাহিদ হাসানের নাম প্রকাশিত হয়েছে। আজ সোমবার পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় তারা নিজের নাম দেখতে পান।শনিবার ও রোববার এ বিষয় নিয়ে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে দুটি নিউজ প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সুমাইয়ার অভিযোগ ছিল, পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমাইয়া। তিনি সাফা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। পরে পিরোজপুর মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে গণিত বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সফলতার সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কী কারণে সুমাইয়াকে ভেরিফিকেশনে অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো কারণ জানতে পারেননি। সুমাইয়ার দাবি ছিল, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। এরপরও ভেরিফিকেশনে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ভেরিফিকেশনের বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন সুমাইয়া। এদিকে মঠবাড়িয়া উপজেলায় সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৮৩ জনের মধ্যে জাহিদের (২৮) মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটাতেও আবেদন করেছিলেন তিনি। চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন জাহিদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁর অভিযোগ ছিল, পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশনে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ। তার বয়স ২৮ বছর। বাবা আবু জাফর হাওলাদার কৃষক। মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। তবু পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন জাহিদ। সাপলেজা মডেল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। পরে ডক্টর রুস্তম আলী ফরাজী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এছাড়া পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান জাহিদ।২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সুমাইয়া বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য সাংবাদিক ভাইদের আন্তরিক ধন্যবাদ।আপনাদের লেখনী ও সহযোগিতায় আমার সমস্যাটি সবার নজরে এসেছে।আজ আমি আমার কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছি—এ আনন্দের মুহূর্তে আপনাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপনাদের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা আমাকে চিরদিন মনে থাকবে। গণমাধ্যমের প্রতি রইল আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা। তিনি আরও জানান, এখনো সারাদেশে প্রায় ৮০০ মতো প্রার্থী বাদ রয়েছে, শুনেছি তাদেরও নাকি চাকরি হবে।জাহিদ বলেন, যখন দেখলাম আমার রেজাল্ট আসছে তখন আমার খুব ভালো লাগছে দেখে। বিশেষ করে আমার পরিবারের জন্য অনেক ভালো লাগছিল, কারণ আমার পরিবারের সবাই ভেঙে পড়ছিল। যখন পিরোজপুরের ওয়েবসাইটে আমার চাকরির খবরটি দেখি তখন আমার আব্বুকে কল দিয়েছিলাম তখন সে আলহামদুলিল্লাহ পড়ছিল তখন আম্মুকে কল দি সে কান্না করে দিয়েছিল। তবে আমি সবথেকে বেশি ধন্যবাদ জানাচ্ছি মিডিয়া গুলোকে তারা আমার এই নিউজটাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে। যার কারণে এই নিউজ মন্ত্রণালয়ে পর্যন্ত চলে গেছে, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এছাড়া আমি কখনো ভাবিনি যে আমার জীবনে এরকমটা ঘটবে তা কখনো ভাবিনি। সরকারকেও আমি ধন্যবাদ জানাই যেহেতু তারা পূনরায় আমার চাকরিটা ফিরিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আলোচনা হচ্ছে। পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে দুই ধাপে মোট ২৪২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। অন্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেলেও জাহিদ ও সুমাইয়া তা পাননি।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা