প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাটাখালী রেলস্টেশনে প্রায় চার মাস ধরে বিদ্যুৎ নেই ,ভোগান্তিতে যাত্রীরা
মুর্শিদুল ইসলাম ইমন খান , বাগেরহাট ||
দীর্ঘ
প্রতীক্ষার পর খুলনা-মোংলা
রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও বাগেরহাটের কাটাখালী রেলস্টেশনে প্রায় চার মাস ধরে নেই বিদ্যুৎ। গত ৩০ মে
স্টেশনের ট্রান্সফরমার চুরি যাওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ
সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে স্টেশনের ফ্যান চলছে না, বন্ধ রয়েছে পানি তোলার মোটরও। ফলে প্রচণ্ড গরমে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে বাথরুম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে পানির সংকট।দীর্ঘদিন
পর খুলনা-মোংলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হওয়ায় এ রুটে যাত্রী
চলাচল বেড়েছে। মোংলা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত চলাচলকারী ট্রেনের যাত্রীরা কাটাখালী স্টেশনে ওঠানামা ও অপেক্ষা করেন।
গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশনে দীর্ঘদিন
বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত
হচ্ছে স্বাভাবিক যাত্রীসেবা।সরেজমিনে
দেখা যায়, স্টেশনের অপেক্ষমাণ কক্ষে বৈদ্যুতিক ফ্যান থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলো
বন্ধ। প্রচণ্ড গরমে অনেক যাত্রীকে বাইরে বা খোলা জায়গায়
দাঁড়িয়ে কিংবা বসে ট্রেনের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বিদ্যুৎচালিত মোটর বন্ধ থাকায় পানির ট্যাংকে নিয়মিত পানি তোলা যাচ্ছে না। এতে বাথরুম ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন যাত্রীরা।কাটাখালী
রেলস্টেশনে অপেক্ষমাণ নারী যাত্রী খাদিজা খাতুন বলেন, বাচ্চা নিয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু স্টেশনে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান
চলে না। প্রচণ্ড গরমে খুব কষ্ট হয়। বাথরুমে গেলেও পানির সমস্যা। প্রায় চার মাস ধরে বিদ্যুৎ না থাকলে যাত্রীদের
কতটা ভোগান্তি হচ্ছে, তা এখানে না
এলে বোঝা যাবে না। আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করুক।যাত্রী
শিউলি বেগম বলেন,ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে এসে গরমে বসে থাকা যায় না। ফ্যান আছে, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় চলে
না। বাথরুমেও পানির সমস্যা। যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া উচিত।আরেক
যাত্রী মামুন বিশ্বাস বলেন,এই রুটে এখন
ট্রেন চলছে। প্রতিদিন মানুষ যাতায়াত করছে। কিন্তু স্টেশনে বিদ্যুৎ না থাকায় যাত্রীদের
দুর্ভোগ হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যার সমাধান করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।স্থানীয়
বাসিন্দা শেখ আসাদুজ্জামান বলেন, প্রায় চার মাস ধরে স্টেশনে বিদ্যুৎ নেই। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে দেখছি। ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর যাত্রীদের সংখ্যা
বেড়েছে। তাই স্টেশনের মৌলিক সুবিধাগুলো দ্রুত নিশ্চিত করা দরকার।কাটাখালী
রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ আলী বলেন,গত ৩০ মে
স্টেশনের ট্রান্সফরমার চুরি যাওয়ার পরপরই বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ
হলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। তিনি
বলেন,ট্রান্সফরমার চুরি যাওয়ার পর থেকেই স্টেশনে
বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ফ্যান চলে না, বাথরুমে পানি তোলা যায় না। বিদ্যুৎ না থাকায় মোটরও
চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমার দায়িত্ব অনুযায়ী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।বাগেরহাট
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বলেন,কাটাখালী রেলস্টেশনে তিনটি ট্রান্সফরমার ছিল। এর মধ্যে দুটি
চুরি হয়ে যায়। একটি রেখে যাওয়া হয়েছিল। পরে সেটি মেরামত করে সেখানে লাগানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে নতুন করে সংযোগ দেওয়ার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কোনো লিখিত আবেদন আসেনি।তিনি
আরও বলেন,ট্রান্সফরমার চুরি হলে নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করে নতুন ট্রান্সফরমার নিতে হয়। স্টেশন মাস্টারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে দেব।যাত্রীদের
দাবি, খুলনা-মোংলা রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও কাটাখালী রেলস্টেশনে প্রায় চার মাস ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় তারা
প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ফ্যান, বাথরুমে পানি সরবরাহসহ স্টেশনের অন্যান্য যাত্রীসেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা