প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাতে সময় মতো ঘুমায় না বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী
মাওয়াজুর রহমান , ইবি ||
সময়মতো ঘুমান না ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করেন না ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৩৮ শতাংশ। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীদের ঘুম ও খাদ্যাভাসের উপর চালানো এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরিপটি চালিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব।জরিপে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মোট ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ২৭৩ জন ছাত্রী এবং ৩১২ জন ছাত্র। অংশগ্রহণকারী ৫৮৫ জনের মধ্যে মোট ৪০৯ জন শিক্ষার্থী সঠিক সময়ে ঘুমান না বলে উঠে এসেছে। যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৭০ শতাংশ। অংশগ্রহণকারী ৩১২ জন ছাত্রের মধ্যে ১৭৯ জন রাত ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে এবং ৬৫ জন ছাত্র রাত ৩টার পরে ঘুমান। অন্যদিকে, ২৭৩ জন ছাত্রীর মধ্যে ১৬৫ জনই ঘুমাতে যান রাত ১২টার পর। তবে ছাত্র-ছাত্রী মিলিয়ে মোট ১৬৮ জন শিক্ষার্থী রাত ১২টার আগেই ঘুমান। এছাড়া ৮ জন (১.৩৭%) মেয়ে শিক্ষার্থী এই বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।এছাড়া খাদ্যাভাসের উপর চালানো জরিপে ছাত্র ও ছাত্রীদের মধ্যে নিয়মিত খাবার গ্রহণে বড় তারতম্য দেখা গেছে। জরিপ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ শতাংশ পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করেন না। ৬৪ শতাংশ যেখানে নিয়মিত তিন বেলা খাবার খায়, সেখানে ছেলেদের ক্ষেত্রে চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক। জরিপে অংশ নেওয়া ৩১২ জন ছেলে শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৬ জনই (৫৩ শতাংশ) দিনে মাত্র দুইবেলা খাবার খেয়ে দিন পার করছে। সকালের নাশতা খাওয়ার অভ্যাসের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশ এগিয়ে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ২৭৩ জন মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১৯ জন (৮০ শতাংশ) নিয়মিত সকালের খাবার খায়। অন্যদিকে, ৩১২ জন ছেলে শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৮০ জন (৫৭ শতাংশ) সকালে খাবার খায়। অর্থাৎ, সকালের নাশতা খাওয়ার অভ্যাসে মেয়ে শিক্ষার্থীরা ছেলেদের তুলনায় ২৩ শতাংশ এগিয়ে আছে।এই অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাসের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান মেডিক্যাল অফিসার এবং বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ, মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদুল হাসান বলেন, “সময়মতো না ঘুমালে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ পায় না, যা তাদের মধ্যে ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা তৈরি করে। এই নিদ্রাহীনতা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব ও মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার ফলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।”দুই বেলা খাবার খাওয়া এবং সকালে নাস্তা না খাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দাবি, নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়া এবং সকাল সকাল ক্লাস বা পরীক্ষা থাকার কারণে তারা নাশতা করার সময় পায় না। এছাড়া আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং বা ক্যান্টিনে সকালের খাবারের মানসম্মত না হওয়া এবং ঘুমাতে দেরি হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন অন্যতম বড় কারণ। এতে সকালের খাবারের প্রতি শিক্ষার্থীদের এক ধরনের অনিহা তৈরি হচ্ছে, যা তাদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।সকালে নাশতা না করার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান বলেন, সারারাত উপবাস থাকার পর শরীর ও মস্তিষ্ক নতুন করে শক্তি পায় সকালের নাস্তা থেকে। কোন শিক্ষার্থী যদি নিয়মিত সকালের নাস্তা না খায়, তাহলে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। কেননা মস্তিষ্কের প্রধান জ্বালানি হলো গ্লুকোজ। সকালে নাস্তা না করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যেতে পারে, ফলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং শেখার ক্ষমতা হ্রাস পায়। শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। নাস্তা না খাওয়ার কারণে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায় না, ফলে শিক্ষার্থী দুর্বল, অলস ও কর্মক্ষমতাহীন বোধ করতে পারে। খেলাধুলা বা অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রমেও তার পারফরম্যান্স কমে যায়। মেজাজের পরিবর্তন ও বিরক্তিভাব দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকলে অনেক শিক্ষার্থী খিটখিটে, উদ্বিগ্ন বা অস্থির হয়ে পড়ে। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় করা বা মনোযোগ হারিয়ে ফেলার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যদি তারা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা