প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
জাবিতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফের মাঠ সংস্কার শুরু
নাফিজ আল জাকারিয়া, জাবি ||
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল-সংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনের দেওয়া কাজ বন্ধের নির্দেশ উপেক্ষা করে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ঠিকাদার কাজ শুরু করলে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তা বন্ধ করতে যান। এ সময় উপস্থিত কিছু শিক্ষার্থীর বাধার মুখে কাজ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি, উল্টো নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ান তারা। এমনকি হলের ৫৫তম ব্যাচের নবীন আবাসিক শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক আবাসিক কক্ষ থেকে মাঠে এনে কাজ বন্ধের বিষয়ে উসকানি দেওয়ার প্রমাণও সরেজমিনে পাওয়া গেছে।খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কাজ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাঠে সংস্কারকাজ চলমান ছিল।ঘটনার বিষয়ে সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার বলেন, “আজ সকালে পুনরায় কাজ শুরু হওয়ার খবর পেয়ে উপাচার্য মহোদয় আমাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। আমি গিয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করি যে, যেহেতু অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে হবে। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় নামাজ শেষে বাকি কথা হবে বলে আমি চলে আসি।”কাজ চলমান থাকার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “মাঠের এই সংস্কার কাজটি বহুল প্রতীক্ষিত। আমরাও চাই কাজ হোক এবং শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার জায়গা পাক। তবে কোনো ভালো কাজ আমরা দুর্নাম নিয়ে শেষ করতে চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতিদ্রুত নিয়মবহির্ভূতভাবে চলমান কাজ বন্ধ করে এবং তদন্ত শেষে সঠিক নিয়মে পুনরায় কাজ সম্পন্ন করার জন্য উদ্যোগ নেবে।”প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কাজ চালানোর বিষয়ে ঠিকাদার আবুল হোসেন বলেন, “কাজ বন্ধ করার জন্য প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, এমন কিছু আমি জানতাম না। আমি প্রতিদিনের মতোই সকালে এসে কাজ শুরু করেছি।”এদিকে কাজ বন্ধে বাধা দেওয়া শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা সাধারণ শিক্ষার্থী এবং তদন্তের পাশাপাশি মাঠের কাজও চলমান রাখতে চান। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ৪৯তম ব্যাচের আবাসিক শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, “ আমরা যারা কাজ বন্ধ করতে দিচ্ছি না, তারা সবাই সাধারণ শিক্ষার্থী। এখানে কোনো পলিটিক্যাল এজেন্ডা বা ব্যক্তিস্বার্থ নেই। একটি মহল চায় না হলের এত সুন্দর একটা মাঠ হোক। প্রশাসন করতে না চাইলে আমরা নিজেদের টাকা দিয়ে কাজ করব। আমরা অনিয়মের বিরুদ্ধে, তদন্ত চলুক, তবে কাজও চলমান থাকুক।”আবাসিক শিক্ষার্থী ৫১তম ব্যাচের সদরুল আমিন বলেন, “তদন্ত কমিটি অনুযায়ী তদন্ত চলমান থাকুক, দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাক। ঠিকাদার দোষী হলে তার লাইসেন্স বাতিল হোক, এতে আমাদের অসুবিধা নেই। কিন্তু কাজ চলতে থাকুক। মাঠের কাজ বন্ধ করে কারও কোনো লাভ হবে না।”এ বিষয়ে হল সংসদের ভিপি অমিত কুমার বণিক বলেন, “শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল বলে আমরা জানি। হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করার কারণ শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। কোনো অভিযোগ বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে সেটি সংশোধন করা হোক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রয়োজনের একটি কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না।”সার্বিক বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা