প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
জাবিতে কর্পোরেট সেবার নামে পকেট কাটার অভিযোগ!
নাফিজ আল জাকারিয়া, জাবি ||
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রায় প্রতিটি আবাসিক হলে চালু থাকা ‘Your Campus’ এর ওয়াশিং মেশিন ও ভেন্ডিং মেশিন সেবা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি বটতলায় প্রতিষ্ঠানটির সুপারশপ দেওয়ার ইস্যু সামনে আসার পর তাদের সেবার মান ও ক্রমবর্ধমান চার্জ নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সেবা নিয়ে পরিচালিত একটি জরিপে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা মেশিন নষ্ট থাকা, নিয়মিত পরিষ্কার না করা, পণ্য না পাওয়া এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী তাদের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন।শিক্ষার্থীদের মন্তব্য থেকে জানা যায়, বিভিন্ন আবাসিক হলের ওয়াশিং মেশিন দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট পড়ে আছে। কোনো কোনো মেশিন কয়েক মাস ধরে অচল থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে মেশিন পুনরায় চালু না হওয়া এবং নষ্ট হওয়ার পর তা মেরামতের বিষয়ে যথাযথ তথ্য না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মেশিনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, মেশিনের ভেতরে দীর্ঘদিনের ময়লা জমে থাকায় কাপড় পরিষ্কার হওয়ার পরিবর্তে উল্টো কাপড়ে ময়লা লেগে যাচ্ছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায় মেশিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কাপড়ও ছিঁড়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এছাড়াও আগে ৬০০ টাকায় ২০টি ওয়াশ এবং ৩৫০ টাকায় ১০টি ওয়াশের যে প্যাকেজ ছিল, বর্তমানে তা বন্ধ করে ওয়াশপ্রতি ৫০ টাকা এবং ২০০ টাকায় ৫টি ওয়াশের প্যাকেজ চালু করা হয়েছে, যা অতিরিক্ত ব্যয়বহুল বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।অন্যদিকে ভেন্ডিং মেশিন নিয়েও একাধিক অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, মেশিনে পণ্য থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় তা ডিসপ্লেতে দেখা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে পণ্য না পেয়েও টাকা কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। আবার প্রয়োজনের সময় মেশিনে কাঙ্ক্ষিত পণ্য না পাওয়া এবং পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, একটি ভেন্ডিং মেশিন সপ্তাহে প্রায় ছয় দিন পর্যন্ত নষ্ট থাকে। অভিযোগ জানানোর পরও বেশির ভাগ সময় তা ঠিক করা হয় না।শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ওয়াজহাতুল ইসলাম বলেন, “প্রথমদিকে তারা কম মূল্যে সার্ভিস দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভ্যস্ততা তৈরি করেছে। এখন হুট করেই মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। ইদানীংকালে মেশিন ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছি, কারণ কাপড় এখন পরিষ্কার হয় না, উল্টো ছিঁড়ে যায়। মেশিন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায় কাপড় ধোয়ার পর ময়লাগুলো ছোট ছোট কণা আকারে কাপড়ের সাথে লেপ্টে থাকে। আমার হলের মেশিনগুলো যখন চলে, তখন বেশ উচ্চশব্দ হয় যা তিনতলা থেকে শোনা যায়। অভিযোগ দেওয়া হলেও উনারা এসে চেক করেননি, শুধু ভিডিও পাঠাতে বলেছেন।”সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বলেন, “ওয়াশিং মেশিন নষ্ট হলে ঠিক করার খবর থাকে না। সুফিয়া কামাল হলে দুটি মেশিন প্রায় সবসময় নষ্ট থাকে। চালু হয় না, মাঝপথে আটকে যায়, যথাসময়ে পরিষ্কারও করে না, কাপড়ে ময়লা লেগে যায়।”শহীদ রফিক-জব্বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রেদওয়ান শিকদার বলেন, “ভেন্ডিং মেশিন জটিলতার কারণে আমার এই পর্যন্ত ৬০ টাকা আটকে গেছে, এর জন্য জীবনেও ওদের কাউকে কন্টাক্ট করে পাইনি।” ওয়াশিং মেশিন নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “রফিক-জব্বার হলের দুইটা ওয়াশিং মেশিন সপ্তাহে সাতদিনের মধ্য৩ আট দিনই মেইনটেন্যান্সের আন্ডারে থাকে বা বন্ধ থাকে। খুবই বাজে সার্ভিস।”রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সুমাইয়া সুলতানা বলেন, “রোকেয়া হলে আমার অনেকবার এমন হয়েছে যে ওয়াশ শেষ, কিন্তু মেসেজ আসে না। আবার মেসেজ আসছে ওয়াশ শেষ, গিয়ে দেখি অনেক দেরি। আবার দেখি আমার টাইম পার হয়ে যায় অথচ ওয়াশ নেয় না, আটকে থাকে। কল দিলে পাই না। আমি অযথাই পেনাল্টি খেয়েছি একবার। আর কারেন্ট গেছে মানে আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম কাপড়।”তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী ‘Your Campus’ এর কাস্টমার সার্ভিসের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করলে অনেক সময় দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়, তবে সব সময় সেবা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। শিক্ষার্থীরা মেশিনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নষ্ট মেশিন দ্রুত সচল করা এবং অর্থের বিনিময়ে প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা