প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
জাকসু ভিপি ও এক ছাত্রদল নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিব্রত জাবি ছাত্রদল
নাফিজ আল জাকারিয়া, জাবি ||
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আবদুর রশিদ জিতু ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল হোসেনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্যাম্পাসে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই দুই নেতার বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও একের পর এক অপকর্মের অভিযোগের জেরে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। এ দুই নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ক্যাম্পাসে বিএনপি ও ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের অর্জিত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।গত বছরের এপ্রিলে শাখা ছাত্রদলের ফ্রি হেপাটাইটিস-বি টিকাদান কর্মসূচি ঘিরে আর্থিক অসচ্ছতা এবং সাবেক এক আওয়ামী সংসদ সদস্যের অর্থায়নে কর্মসূচি আয়োজনের অভিযোগ ওঠে ফয়সাল হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অনুসারী কর্মীদের জাকসুর পদবিকে ঢাল বানিয়ে ও ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে আর্থিক সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া সাংবাদিকদের নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিরূপ মন্তব্যের কারণে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের বড়সড় দূরত্ব তৈরি হয়েছে।গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের সাবেক আওয়ামী লীগ মনোনীত এমপি মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এই কর্মসূচির অর্থায়ন করেছিলেন। টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বের জেরে গত ২৪ এপ্রিল ছাত্রদলের একটি অংশের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানায়। জানা যায়, প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বাজেট থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত রেখে সেই অর্থ ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে সংঘাত তৈরি হয়।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ফয়সাল হোসেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনায় ও ড্যাবের (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) সহযোগিতায় আমরা ভ্যাকসিন কর্মসূচি পরিচালনা করেছি। আমরা এখানে শুধু ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছি। আমাদের এই কার্যক্রম থেকে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার জন শিক্ষার্থী ভ্যাকসিন নিয়েছেন এবং প্রায় সাড়ে ৭ হাজার জন স্ক্রিনিং করেছেন। এখানে অর্থের কোনো বিষয়ই ছিল না। আমার ব্যাপারে আনা এই অভিযোগ মনগড়া।”শাখা ছাত্রদলের নেতা ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে নিজের অনুসারী নেতা-কর্মীদের বেশি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গত বছরের আগস্টে শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন হল কমিটি ঘোষণা করা হয়। এসময় অন্যান্য হল কমিটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও মওলানা ভাসানী হলের সভাপতি দেওয়া হয় ফেরদৌস রহমানকে। তার ছাত্রত্ব না থাকার পরও ফয়সালের সঙ্গে রাজনীতি করায় তাকে হলের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া কমিটিতে ছাত্রলীগের কয়েকজন পদ পান যাদের অনেকেই ফয়সাল গ্রুপের রাজনীতি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে শাখার অন্যান্য নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা বিক্ষোভও করেন। এ ঘটনার মধ্যে ৯ আগস্ট বটতলা এলাকায় ফয়সালের রাজনীতি করা যুগ্ম আহবায়ক মেহেদি মজুমদারকে ধাওয়া দেন অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। এছাড়া গতবছরে জাকসু নির্বাচনের সময় ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী হন শেখ সাদী হাসান। তবে শাখা ছাত্রদলের প্রার্থীদের মধ্যে যারা কম সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে সাদী অন্যতম। প্রায় ১২ হাজার ভোটারের মধ্যে তিনি মাত্র ৬৪৮ টি ভোট পেয়ে বিপুল ব্যাবধানে হারেন। সে সময় অন্যান্য নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী অপরিচিত মুখ হওয়া স্বত্তেও ফয়সাল গ্রুপের রাজনীতি করার কারণে তারচেয়ে অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তাকে ভিপি প্রার্থী করা হয়। যার খেসারত দিতে হয় পুরো ছাত্রদলের প্যানেলকে।নামে-বেনামে বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজ খুলে সেগুলোর মাধ্যমে নানা সময়ে বিরোধী দল-মতের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার অভিযোগও রয়েছে ছাত্রদল নেতা ফয়সালের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ফয়সাল বলেন, “ক্যাম্পাসে কিছু লোক আছে, যাদের কাজই হলো আমাদের পেছনে লেগে থাকা। যেসব বেনামী ফেইসবুক পেইজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ আছে সেগুলো ছাত্রদলের কোনো গোপন পেজ নয়। গোপনভাবে আমাদের কোনো অবস্থান নেই।”তার দাবি, জাবিতে এ ধরনের যেসব পেইজ রয়েছে, এগুলো শিবির ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিককে সামনে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ধাক্কা দেন ফয়সাল হোসেন। সদস্যসচিবকে ধাক্কা দেওয়ার বিষয়ে ফয়সাল বলেন, “প্রথমে আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে যাচ্ছিলাম। তখন বেশি নেতাকর্মী ছিল না। পরে পেছন থেকে অনেকে নেতাকর্মী যুক্ত হয়। ছোট ভাইয়েরা সামনে আসতে চায়, তখনই ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে সমস্যাটি সেখানেই সমাধান হয়ে যায়।”ফয়সাল হোসেন কর্তৃক তাকে ধাক্কা দেওয়ার বিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, “সেখানে দাঁড়ানোর বিষয়টি ডেকোরাম অনুযায়ী পরিচালিত না হওয়ায় অন্যান্য যুগ্ম আহ্বায়কদের সঙ্গে তার (ফয়সাল) ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে আমরা বিষয়টি সামলিয়ে নিই এবং অনুষ্ঠান উপভোগ করি। একজন সিনিয়র কর্মীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অপ্রত্যাশিত। কারণ এই আচরণের মধ্য দিয়ে সংগঠনের শৃঙ্খলা থাকে না এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।”একইদিন রাতে জাকসু ভিপি জিতুকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে শোডাউন দিয়ে মুক্তমঞ্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন ফয়সাল। সেখানে আমন্ত্রিত অতিথিদের নাম ঘোষণার সময় তালিকায় নিজের নাম না থাকায় নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, মুক্তমঞ্চের এ ঘটনায় জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদকে অপমান করেন ফয়সাল। এ ঘটনার পর জিসান ওই রাতেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন।শোডাউন প্রসঙ্গে ফয়সাল বলেন, “জিতু ছাত্রদলের একজন কর্মী। স্বাভাবিক হিসেবেই আমরা প্রায়ই একসঙ্গে কথাবার্তা বলি, আড্ডা দিই। ওই দিনও আমরা একসঙ্গে মুভ করি। সঙ্গে আমাদের অনেক ছোট ভাইও ছিল। পরে আমরা একসঙ্গে অনুষ্ঠানে যাই। এটি কোনো ধরনের শোডাউন ছিল না।”মুক্তমঞ্চের ঘটনা সম্পর্কে ফয়সাল হোসেন বলেন, “নামের সিকোয়েন্স ঠিক না থাকায় জুনিয়রদের নাম আগে চলে আসে। প্রথমে যে লিস্টটা দেওয়া হয়, সেখানে অনেকের নাম ছিল না। পরে তাকে আবার দ্বিতীয়বার নামের লিস্ট দেওয়া হয়।”শেখ জিসানের পদত্যাগের বিষয়ে ফয়সাল বলেন, “মূলত তাকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। তবে লাবিবসহ আরও অনেককে কাজ করতে দেখা যায়। তিনি মূলত কাজ করতে না পারার ফলে পদত্যাগ করেছেন। তাকে কাজের সময় বাধা দেওয়া হয়েছে, যেটি মূলত পদত্যাগের প্রধান কারণ।”এসব ঘটনার জেরে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনায় ফয়সাল হোসেনকে শোকজ করা হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে ফয়সালের দাবি, শোকজের বিষয়টি এখন পুরোপুরি সমাধান হয়ে গেছে।জাকসু ভিপির ক্ষমতার অপব্যবহার ও টালবাহানাঅন্যদিকে জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতুর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পরও নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে অবৈধভাবে অবস্থান এবং তা টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনকে চাপ দিয়ে নোটিশ জারি করানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে নির্বাচন করেন সাবেক ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য আব্দুর রশিদ জিতু। নির্বাচিত হওয়ার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে তিনি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। তবে জিতু বিএনপিতে যোগ দিলেও শাখা ছাত্রদলের নেতা ফয়সাল হোসেনের হাত ধরে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সঙ্গে ঘেঁষতে শুরু করেছেন তিনি। এ নিয়ে অন্যান্য নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট হচ্ছে।এর আগে গত ২৩ জুলাই অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফাঁস হওয়া একটি অডিও কথোপকথনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অডিওতে শহীদ সালাম-বরকত হলের উচ্চমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মনির হোসেনকে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া এবং টাকা না দিলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর না পাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। একই অডিওতে ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর নামও উচ্চারিত হয়।সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট আটক এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ব্যক্তিগত প্রভাবে ছাড়িয়ে আনার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সংগঠনের তোপের মুখে পড়েন তিনি। ওই রাতেই ক্যান্টিনে খাওয়ার সময় ক্যাম্পাসে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন ছাত্রশক্তি ও ছাত্রদলের নেতাকে উদ্দেশ্য গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এতে একদল শিক্ষার্থী জিতুর আবাসিক হল আল-বেরুনী হলের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। তবে সে রাতে হল থেকে আর নামেনি আব্দুর রশিদ জিতু। এ সমস্ত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেন জিতু। তিনি বলেন, “ওই দোকানদার নিজে কখনো বলেনি যে আমি টাকা না দিয়ে খেয়েছি। গত ৫ তারিখেও আমার নাম ব্যবহার করে আহসান লাবিব ১০টা সিগারেট নিয়ে গেছে। এভাবে অনেকেই আমার নাম ব্যবহার করে খায়। আমি ওই দোকানদারকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, গত ১০ মাসে আমি সেখানে কিছু খাইনি। তবে আমার নাম বলে অন্যরা খেয়েছে। আমি নিজ দায়িত্বে তাকে ডেকে এনে ওই পুরো টাকাটা পরিশোধ করে দিয়েছি।”ছাত্রদল নেতা ফয়সালের সাথে অন্তরঙ্গতার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা উভয়েই বিএনপির রাজনীতি করি। তিনি মুক্তমঞ্চে যাচ্ছিলেন, আমি সাথে গিয়েছি। জুনিয়ররা তখন ছবি তুলেছে, এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। আমি ছাত্রদলের রাজনীতি করি না, আমি মাদার পার্টির (বিএনপি) রাজনীতি করি। সুতরাং কোনো স্বার্থের কারণে তার সাথে একজোট হওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হলে থাকা ও প্রশাসন কর্তৃক জারিকৃত নোটিশের বিষয়ে জিতু বলেন, “জাকসুর গঠনতন্ত্রে ছাত্রত্ব শেষ হলে কী হবে, তা স্পষ্ট বলা নেই। বিভিন্ন হলে ৮-৯ জন ভিপি-জিএস আছেন যাদের ছাত্রত্ব শেষ। তারা চলে গেলে হল সংসদ কীভাবে চলবে বা শূন্য হয়ে যাবে কি না, সে বিষয়ে গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি দেখছে। প্রশাসন তাদের নিয়ম অনুযায়ী কী করবে, সেটা তাদের ব্যাপার। এখানে আমার কোনো প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই।”ছাত্রলীগ কর্মীকে আশ্রয় দেওয়া ও ছাড়িয়ে আনার বিষয়ে জিতু বলেন, “ছাত্রলীগ নেতা আবির কি আমার সাথে চলাফেরা করে? আমি তাকে কোথায় আশ্রয় দিয়েছি? কেউ কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি যে আমি তাদের আশ্রয় দিয়েছি বা ইন্ধন জুগিয়েছি। আমি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করছি।”ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়াফয়সাল হোসেনের বিরুদ্ধে আসা এসব অভিযোগের বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, “ফয়সালের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলোর কোনো প্রমাণ নেই এবং অতীতেও তার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ ছিল না। আর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এসব অভিযোগের মূল্যায়ন করাও সম্ভব নয়।”তিনি আরো বলেন, “আমাদের ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী নেতিবাচক কাজের সাথে জড়িত নয়। যারা এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা হয়তো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। এগুলো চরিত্রহননের নোংরা চেষ্টা। বর্তমান সময়ে অনলাইনে কে কাকে নিয়ে কী লিখছে, তা দিয়ে রাজনীতি হয় না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে শান্তি চায়, তারা এসব কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি পছন্দ করে না। আমরা চাই এসব নোংরামি বন্ধ হোক।”জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সাথে ছাত্রদলের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, “জিতু যখন আমাদের মাদার পার্টিতে (বিএনপি) যোগ দেন, তখন আমাকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে ছাত্রদল নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই। তিনি মূল দলের সদস্য এবং জাকসু ভিপি। ছাত্রদল একটি সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো এবং ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকের মাধ্যমে কেন্দ্র দ্বারা পরিচালিত হয়। তার (জিতু) সাথে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে জাকসুর নির্বাচিত ভিপি হিসেবে আমরা তাকে সম্মান করি।”সংগঠনের অভ্যন্তরীন শৃঙ্খলার বিষয়ে বাবর বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে, তবে অতীতের কিছু অস্বস্তিকর মুহূর্ত ভুলে এখন আমরা ঐক্যবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য দেশনায়ক তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ গড়ার ভিশনকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। ক্যাম্পাসে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার, সেটি আমরা সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত রাখব।”সার্বিক বিষয়ে মতামত নিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা