প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
৪ দফা দাবিতে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের মানববন্ধন
নাফিজ আল জাকারিয়া, জাবি ||
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বন্ধ, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ‘দাসত্বের মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংসদ।বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সোমবার (১০ আগস্ট) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইমরান হাসান শুভ বলেন, “নির্বাচনের আগে বিএনপি ইশতেহারে উল্লেখ করেছিল শিক্ষায় অন্তত ৫ শতাংশ বাজেট দেবে। কিন্তু নির্বাচনের পর বাজেটে আমরা দেখলাম শিক্ষায় আগের মতোই ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আমাদের সঙ্গে এত বড় মিথ্যাচার করা হলো। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য কোনো বাজেট থাকে না। থিসিসের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য মাত্র ৭০০ টাকা দেওয়া হয়, যা দিয়ে খাতা-কলম কেনাও সম্ভব নয়। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে বাজেট দেয়, তার ৯৫ শতাংশই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন দিতে ব্যয় হয়।”তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের শিক্ষার একটা বড় বাণিজ্য হচ্ছে কোচিং বাণিজ্য। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সবখানেই কোচিং অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা ২০-২৫ হাজার টাকা দিয়ে কোচিং করতে পারে, তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়। আর যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তারা উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। এ ছাড়া বিগত সরকার তাদের আমলে মার্কিন সরকারের সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছে, যা দেশের জন্য কী পরিণতি আনবে, তা আমরা জানি না। নতুন সরকার আসার পরও এ নিয়ে কোনো কিছু খোলাসা করেনি।”ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম ২০২৪ সালের মুভমেন্টের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বন্ধ হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, ছাত্রসংগঠনগুলো আবারও আগের মতোই সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বে জড়িয়ে পড়ছে। এর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”কোচিং বাণিজ্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোচিং ব্যবসা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। কিন্তু তার আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান উন্নত করতে হবে। ভালো শিক্ষক ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী ভালো করতে পারে না বলে প্রাইভেট টিউশন বা কোচিংয়ে নির্ভর করতে বাধ্য হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সাধারণ পরিবারের পক্ষে কোচিংয়ের খরচ বহন করে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”মার্কিন চুক্তির সমালোচনা করে অদ্রি অংকুর বলেন, “অনির্বাচিত সরকারের আমলে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম, নির্বাচিত সরকার আসার পর এ বিষয়ে একটি স্থায়ী সমাধান হবে এবং জনগণ চুক্তির বিস্তারিত জানতে পারবে। কিন্তু সংসদে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা এখানে গোলামির চুক্তি দেখতে পাচ্ছি। এ ছাড়া ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা প্রাইভেট কোম্পানিকে দেওয়া হচ্ছে এবং যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টার করার প্রস্তাব দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের জনগণের কী লাভ, তা পরিষ্কার নয়। সরকার এখনো এক বছর পার করেনি, তাদের মনে রাখতে হবে, ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণকে ফাঁকি দিয়ে দেশ চালানো যাবে না।”
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা