প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
রক্তঝরা জুলাই ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: অধিকার আদায়ের উত্তাল দিনগুলো
মাওয়াজুর রহমান , ইবি ||
২০২৪ সালের জুলাই মাসটি বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় এক গৌরবময় ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে খোদাই হয়ে আছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেবল ঢাকা বা নির্দিষ্ট কোনো ক্যাম্পাসের সীমানায় আবদ্ধ ছিল না; বরং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও (ইবি) এই আন্দোলনে রেখেছিল অত্যন্ত সাহসিকতাপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা। কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি থেকে শুরু করে স্বৈরাচার পতন পর্যন্ত ইবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রক্ত, ঘাম এবং ত্যাগের ধারাবাহিক দলিল এই প্রতিবেদন।২ জুলাই: শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। তাদের মূল দাবির মধ্যে ছিল-২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল করা, কমিশন গঠন করে সকল সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ, যোগ্য প্রার্থীর অভাবে শূন্য পদে মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করা।৪ ও ৬ জুলাই: দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন। ৪ জুলাই কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে ২০ মিনিট অবরোধ করে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। ৬ জুলাই বৃষ্টিতে ভিজে প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সংগত দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন আজাদ।৮ জুলাই: দেশব্যাপী চলা 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইবি শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান।১০-১৫ জুলাই: ব্লকেড, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ও প্রশাসনিক চাপ১০ জুলাই: 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ বেছে নেন শিক্ষার্থীরা। কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে প্রতিবাদী কবিতা, গান, গীতিনাট্য ও অভিনয়ের মাধ্যমে কোটা সংস্কারের দাবি জানান। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা এই অবরোধ চলে।১২ জুলাই: বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বুকে কালো ব্যাচ ধারণ করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।১৪ জুলাই: সরকারি চাকরিতে কোটা বৈষম্য নিরসনে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে এক ঘণ্টার পদযাত্রা করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।১৫ জুলাই: আগের রাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে তুমি কে? আমি কে? রাজাকার রাজাকার' স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর জবাবে নিষিদ্ধ শাখা ছাত্রলীগ বেলা ১১টায় রাজাকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও ছাত্রসমাবেশ করে। অন্যদিকে, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল এই আন্দোলনের সঙ্গে প্রকাশ্য একাত্মতা প্রকাশ করেন।১৬ জুলাই: ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধের মাইকিং করা হয়। ইবি বঙ্গবন্ধু শাখা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের রাজাকার' স্লোগানে অবমূল্যায়ন করায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে। একই দিনে ইউজিসি দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেয়।১৭ জুলাই: বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৪তম জরুরি সিন্ডিকেট অনুষ্ঠিত হয়। সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১টার মধ্যে ছাত্র হল এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে বিকাল সাড়ে চারটায় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, আবাসিক হল খোলা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা। সকালের মধ্যে হল খোলার আল্টিমেটাম দিয়ে আট শতাধিক শিক্ষার্থী লাঠি-সোটা হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি জিয়া মোড়ে পৌঁছালে ইবি ছাত্রলীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় এবং ছাত্রলীগের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়।১৮ জুলাই: শিক্ষার্থীরা বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সোয়া ছয়টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি পালন করেন। মহাসড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ফটকে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। ১৭ জুলাই গভীর রাতে (রাত ২টার দিকে) ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী শেখপাড়ার একটি মেস থেকে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী সোহরাব মজুমদারকে ডিবি পুলিশ আটক করে শৈলকূপা থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিকালে থানায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ফটকে 'ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস ও 'ছাত্রলীগ প্রবেশ নিষেধ লেখা কাগজ লাগিয়ে দেন এবং নেতাদের ব্যানার পুড়িয়ে দেন।২৩ জুলাই: কঠো কারফুউ উপেক্ষা করে বেলা ১১টায় প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন ইবির তিন শতাধিক শিক্ষার্থী।২৪ জুলাই: শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাসে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় অফিসসমূহ খোলা রাখা হয়।২৯ জুলাই: কুষ্টিয়ার চৌরহাস ও বাস টার্মিনাল এলাকায় আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শহরের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেটদের কড়া টহল ছিল। আন্দোলনকারী সন্দেহে পুলিশ ৩০ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে, যার মধ্যে ১৮ জনই ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের। এদিকে প্রশাসনের সঙ্গে দুই ঘণ্টা বৈঠক করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের একটি বিবৃতিতে আব্দুর রহমানসহ ৯ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করেন। তবে পরবর্তীতে একাধিক সমন্বয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জানান যে, স্বাক্ষরকারী শিক্ষার্থীরা আন্দোলনকারীদের মূল মুখপাত্র নন। পরবর্তীতে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা শিক্ষার্থীরা জানান বিবৃতিটি পূর্বে প্রস্তুত করা ছিল, আমাদের বাধ্য করা হয়েছিল স্বাক্ষর করার জন্য। এদিনে গ্রেপ্তার হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলেন, আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের জাকারিয়া হোসাইন, একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আইয়ুব আলী ও আলফাজ হোসাইন, আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের তানজিল হোসাইন, ইসমাইল হোসেন রাহাত মুতাসিম বিল্লাহ নাকিব, একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মনিরুজ্জামান, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ইদ্রিস আলী, একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মহিববুল্লাহ আল আজাদ, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ফাহাদ বিন হারুন, শাহজালাল, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শফিউল ইসলাম, একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের খাইরুল ইসলাম, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মারুফ হাসান, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সাজেদুর রহমান, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সাজ্জাদ সাব্বির টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের আতিউর রহমান এ দিনে গ্রেপ্তার হয়।গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের ছাড়াতে যাওয়া শিক্ষকরা হলেন, অধ্যাপক ড. আকতার হোসাইন, অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসাইন, অধ্যাপক ড. আব্দুল বারি, অধ্যাপক ড. মাসুদ আল মাহদী, অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম।৩০ জুলাই: মধ্যরাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় গিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আটক থাকা ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে আনেন সাহসী ৬ জন শিক্ষক।অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এক শিক্ষার্থীকে আটক রাখা হয়। পরে দুপুরের দিকে তাকেও ছাড়িয়ে আনেন শিক্ষকরা।৩১ জুলাই: 'মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা ও ধরপাকড়ের কারণে কুষ্টিয়ায় কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় ইবির ১১ জনসহ ১৪ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ, যাদের রাতে শিক্ষকরা ছাড়িয়ে আনেন। অন্যদিকে, শোকের মাস আগস্ট স্মরণে সন্ধ্যায় মৃত্যুঞ্জয় মুজিব ম্যুরালের পাদদেশে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করে তৎকালীন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের ছাড়াতে যাওয়া শিক্ষকরা হলেন, অধ্যাপক ড. আকতার হোসাইন অধ্যাপক ড. আখম ওয়ালিউল্লাহ, অধ্যাপক ড. মুজাহিদুর রহমান এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর।১ আগস্ট: বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা 'রিমেম্বার আওয়ার হিরোস' কর্মসূচি পালন করেন। সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা, গণগ্রেফতার, হামলা-মামলা ও গুম-খুনের প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিক বিচার এবং ছাত্র সমাজের ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এই দিন শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্যাডযুক্ত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।২ আগস্ট: বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।৩ আগস্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও জনতা বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় ক্যাম্পাসের শাখা ছাত্রলীগের কার্যালয় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্রধান ফটকে রং দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান লেখা হয়। বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীরা শেখপাড়া প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে সমাবেশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন কলা অনুষদের ডিন ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, তৎকালীন ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান আশরাফী, আইন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. নুরুন্নাহারসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা। একই দিনে ইবি কেন্দ্রীয় মসজিদে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং অধ্যাপক এমতাজ হোসেন ও অধ্যাপক নাছির উদ্দীন মিঝি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।৪ আগস্ট: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার স্থানীয় জনতা। দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসসংলগ্ন পূর্ব আবদালপুরে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। দুপুর দেড়টায় আন্দোলনকারীরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসন ভবন থেকে বের করে দেন। বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা ফটকের ওপর মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবিসংবলিত বিলবোর্ড এবং ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোর মাইক ভাঙচুর করেন। চলমান এ আন্দোলনের প্রতিবাদে ইবির প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন 'শাপলা ফোরাম' র্যালি ও সমাবেশ করে।৫ আগস্ট: চূড়ান্ত বিজয় ও নতুন বাংলাদেশ দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, পুলিশি নির্যাতন, মামলা ও শিক্ষক-ছাত্রদের যৌথ ত্যাগের পর অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক ক্ষণ। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত বিজয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর থেকে শুরু করে কুষ্টিয়ার রাজপথ-সবখানেই ধ্বনিত হয় মুক্তির জয়গান। জুলাইয়ের এই আন্দোলন ইবি শিক্ষার্থীদের অধিকার সচেতনতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব এবং শিক্ষকদের মমত্ববোধের এক চিরন্তন প্রতীক হয়ে থাকবে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা