প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
টিএসসিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের দিনব্যাপী ‘জুলাই উদযাপন’
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কোনো একক গোষ্ঠীর কৃতিত্ব নয়, বরং সব মত ও পথের মানুষের বহুমাত্রিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে দিনব্যাপী 'জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস' পালিত হয়েছে। শনিবার (১৮ই জুলাই) ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে টিএসসি প্রাঙ্গণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী ফটো এক্সিবিশনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা ঘটে। এরপর দুপুর ২টায় 'এই সংসদ বিশ্বাস করে, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা কেবল স্মরণে নয়, নীতিনির্ধারণেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত' শীর্ষক একটি প্রাণবন্ত গণবিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।বিকেল সাড়ে ৩টায় ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে 'জুলাই পরবর্তী ছাত্র রাজনীতির প্যাটার্ন: মত ও মতান্তর' শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাবি শাখার সভাপতি সাইফ মুহাম্মাদ আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, ঢাবি ছাত্রদলের ১ নং সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান অনিক, ঢাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক, ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাদমান আব্দুল্লাহ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ঢাবি শিক্ষার্থী আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ নিজেদের বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের অর্জন ধরে রেখে ছাত্র রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের ওপর জোর দেন।পরবর্তীতে বাদ আসর জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: অর্জন-অপূর্ণতা ও রাজনৈতিক বিভাজন' শীর্ষক একটি প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলোচক হিসেবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর ড. সাইফুদ্দীন আহমেদ, লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক শায়খ মুসা আল হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ এবং ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারি মাহাদী হাসান।আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, 'জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দেশের মানুষের মনে ভর করা দীর্ঘদিনের ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়া। তবে দুঃখের বিষয় হলো, দেশের ইতিহাসে গণভোট বা রেফারেন্ডাম বাস্তবায়িত না হওয়ার একমাত্র দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে এই জুলাই রেফারেন্ডাম।'রাষ্ট্রচিন্তক শাইখ মুসা আল হাফিজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে কোনোভাবেই থমকে যেতে দেওয়া যাবে না বরং বহুরৈখিক আন্দোলনের মাধ্যমে একে নিরন্তর জারি রাখতে হবে।প্যানেল আলোচকরা একমত পোষণ করে বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো একক ব্যক্তি বা দলের পরিকল্পনার ফসল নয়, এটি দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অর্জন। এই গণ-অভ্যুত্থান সবার জন্য যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, দেশ গড়ার স্বার্থে তা সম্মিলিতভাবেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা