প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
হজে বাধা ও পশু কোরবানি ছাড়াই গাজায় কাটবে তৃতীয় ঈদুল আজহা
নিউজ ডেস্ক ||
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়সী নাজিয়া আবু লেহিয়া। দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল স্বামীর সঙ্গে পবিত্র মক্কায় গিয়ে হজ পালন করবেন। ২০২৪ সালে সেই সুযোগ এসেছিল, হজের জন্য নির্বাচিতও হয়েছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁদের আর হজে যাওয়া হয়নি।চলতি বছরও নাজিয়ার হজ পালন করা হচ্ছে না। কারণ গাজার সীমান্ত এখনো বন্ধ। তার চেয়েও বড় ট্র্যাজেডি হলো, যার সঙ্গে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বামী গত বছর ইসরায়েলি বোমার আঘাতে নিহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি হারিয়ে নাজিয়া এখন দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের একটি তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছেন।বার্তা সংস্থা এএফপি-কে নিজের তাঁবুতে বসে নাজিয়া বলেন, আমি এবং আমার স্বামী ২০২৪ সালের হজের জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলাম, সিলেক্টও হয়েছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল, সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেল... আমাদের আর হজে যাওয়া হলো না। ভেবেছিলাম যুদ্ধ শেষ হলে সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে; কিন্তু গত বছর এক বোমা হামলায় স্বামী নিহত হলেন।মোবাইলে হজের ভিডিও ফুটেজ দেখতে দেখতে চোখ ভেজান নাজিয়া। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "হজযাত্রীদের জন্য সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে কেন? তারা তো শুধু ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা পালন করতে চায়। আজ এই দিনে আমাদের মক্কায় থাকার কথা ছিল।" তবে এখনো আশা ছাড়েননি এই নারী। তিনি বলেন, "মাঝে মাঝে দুশ্চিন্তা হয় আমিও হয়তো স্বামীর মতো কোনোদিন নিহত হব, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছে হলে অবশ্যই একদিন হজ করতে পারব।"যুদ্ধের আগে গাজার বাসিন্দারা রাফা ক্রসিং পেরিয়ে মিসর হয়ে সৌদি আরবে হজে যেতেন। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর গাজাবাসীর ‘লাইফলাইন’ খ্যাত এই ক্রসিং বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল।যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। এর আওতায় চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাফা ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সপ্তাহে মাত্র কয়েক শ গাজাবাসীকে সীমান্ত পেরোনোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যেখানে মূলত অসুস্থ ও আহতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।সীমান্ত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা ‘কোগাট’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কেবল মানবিক কারণে রাফা ক্রসিং উন্মুক্ত করার কথা বলা আছে, হজযাত্রা এই ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে না।আগামী ২৭ মে গাজায় ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। তবে এবারও কোরবানির আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকছেন গাজাবাসী। ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে প্রতি বছর গাজার মুসলিমরা ১০ থেকে ২০ হাজার গরু-উট এবং ৩০ থেকে ৪০ হাজার ভেড়া-দুম্বা আমদানি করত। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় জীবন্ত পশু আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে ২০২৪ সাল থেকে পশু কোরবানি ছাড়াই ঈদুল আজহা উদযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে গাজার ফিলিস্তিনিরা।কোগাট সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে প্রায় ৮ হাজার টন মাংস, মুরগি, ডিম ও দুধ গাজায় প্রবেশ করতে এবং তা বিতরণের অনুমতি দেওয়া হলেও, কোরবানির পশু আমদানির কোনো অনুমতি এখনো দেয়নি ইসরায়েল সরকার। ফলে উৎসবের দিনেও গাজাজুড়ে বিরাজ করছে কেবলই প্রিয়জন হারানোর শোক আর অনাহারের হাহাকার।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা