প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
ট্রাম্পের পর এবার চীন সফরে পুতিন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচিত চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়ার ঠিক চার দিনের মাথায় বেইজিং সফরে গিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে পুতিনকে বহনকারী বিমানটি বেইজিংয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।বিমানবন্দরে রুশ প্রেসিডেন্ট ও তার প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এর আগে গত বুধবার (১৩ মে) ট্রাম্প বেইজিংয়ে অবতরণ করলে তাকে যেভাবে লাল গোলাপ সংবর্ধনা, সামরিক ব্যান্ডের সঙ্গীত এবং তরুণ-তরুণীদের স্লোগানে স্বাগত জানানো হয়েছিল; পুতিনের বেলাতেও ঠিক একই রকম রাজকীয় আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মতবিনিময় করাই পুতিনের এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমাদের সাথে মস্কোর দূরত্ব বাড়লেও, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক দিন দিন আরও গভীর হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াংকুন এই সম্পর্ককে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ‘সহনশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে চীনের জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় পুতিন বলেন, "রাশিয়া ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সত্যিকার অর্থে ‘অভাবনীয় উচ্চতায়’ পৌঁছেছে এবং দুই দেশের বাণিজ্যসম্পর্ক দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।" উল্লেখ্য, পুতিন এবং শি জিনপিং বহুবার পরস্পরকে ‘দীর্ঘদিনের ভালো বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই আকস্মিক সফরের পেছনে মূল কারণ দুটি— জ্বালানি তেল এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি।চীন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ক্রেতা এবং রুশ তেলের একটি বড় বাজার। তবে গত শুক্রবার চীন সফর শেষ করে ট্রাম্প দাবি করেন, বেইজিং তাদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে রাজি হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই চালের পর পুতিন নিজের তেলের বাজার ধরে রাখতে বেশ তৎপর।আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ‘এশিয়া সোসাইটি’র কর্মকর্তা লায়েল মরিস এএফপিকে বলেন, "পুতিন কোনোভাবেই চীনের মতো বড় তেলের বাজার হারাতে চান না। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে চীনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তাও জানতে চান তিনি। কারণ, ট্রাম্প তার সফরে আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে বেইজিং অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।"বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পরপরই পুতিনের এই বেইজিং সফর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দিতে যাচ্ছে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা