প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন
নিউজ ডেস্ক ||
আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশকে ভিত্তি ধরে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম দুই বছরে মূল বেতনের বর্ধিত অংশ ৫০ শতাংশ করে দেওয়া হবে এবং তৃতীয় বছরে নতুন হারে বিভিন্ন ভাতা যুক্ত হবে।সরকারি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। সম্প্রতি সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে নতুন বেতনকাঠামোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সরকারি পর্যায়ে ইতিবাচক অগ্রগতির পর আগামী ২১ মে আবারও বৈঠকে বসছে নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই বৈঠকেই বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ হতে পারে।অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। তবে বাজেট ঘাটতি ও রাজস্ব আদায়ের দুর্বল অবস্থার কারণে বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে এগোনোর চিন্তা করা হচ্ছে।নতুন কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমানে যিনি ৫০ হাজার টাকা মূল বেতন পান, তার নতুন স্কেলে বেতন হবে এক লাখ টাকা। তবে প্রথম বছর পুরো বেতন কার্যকর হবে না। প্রথম ধাপে তিনি বাড়তি অংশের অর্ধেক পাবেন, অর্থাৎ মূল বেতন দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় বছরে পুরো মূল বেতন কার্যকর হবে এবং তৃতীয় বছরে নতুন হারে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা যোগ হবে।এর আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত জানুয়ারিতে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এপ্রিলে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশও রয়েছে।শুধু কর্মরত চাকরিজীবী নয়, পেনশনভোগীরাও বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শতভাগ পর্যন্ত পেনশন বাড়তে পারে। এছাড়া বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিরও সুপারিশ করা হয়েছে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে আগামী বাজেটে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। পুরো কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। তবে একই সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা