প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে: আইসিডিডিআর,বি
নিউজ ডেস্ক ||
রাজধানীর শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু নিয়মিত মাথাব্যথায় ভুগছে, আর অধিকাংশই আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি সময় স্ক্রিনে কাটাচ্ছে।২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকার ছয়টি স্কুলে পরিচালিত এই গবেষণায় ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে তিনটি বাংলা মাধ্যম ও তিনটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ছিল। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অফ মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ: হিউম্যান ফ্যাক্টরস’-এ।গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় চারজন প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় মোবাইল, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটারে ব্যয় করে। গড়ে প্রতিটি শিশু দৈনিক প্রায় ৪.৬ ঘণ্টা স্ক্রিনে সময় কাটায়, যা স্বাভাবিক সীমার তুলনায় অনেক বেশি।স্বাস্থ্যগত দিক থেকে দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশের মধ্যে ঘন ঘন মাথাব্যথার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে, তাদের ঘুমের গড় সময় নেমে এসেছে প্রায় ৭.৩ ঘণ্টায়, যেখানে এই বয়সে প্রয়োজন অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। পাশাপাশি প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত, এবং স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে এই প্রবণতার সম্পর্কও বেশি পাওয়া গেছে।মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, আচরণগত সমস্যা বা অতিচঞ্চলতার মতো একাধিক সমস্যায় ভুগছে।গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার কারণে ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়, শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।গবেষণার প্রধান গবেষক ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন জানান, শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, খিটখিটে আচরণ, খেলাধুলায় অনীহা বা মনোযোগ কমে যাওয়া—এসব লক্ষণকে অবহেলা না করে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করা নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ও স্বাস্থ্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যে রাখা উচিত।তিনি আরও বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা, পর্যাপ্ত ঘুম, পারিবারিক সময় এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।গবেষকরা ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন—প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর ২০ সেকেন্ড বিরতি নিয়ে ২০ ফুট দূরের দিকে তাকানো। তাদের মতে, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা