প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
একনেকে উঠছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প, ব্যয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা
নিউজ ডেস্ক ||
দীর্ঘদিনের আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। প্রায় আড়াই দশক আগে শুরু হওয়া উদ্যোগ নতুন করে গতি পেয়েছে, আর আগামী বুধবারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি সভায় প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। এর আওতায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। সরকার বলছে, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে ভোগা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রকল্প নথি অনুযায়ী, ব্যারাজে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস ও দুটি ফিশ পাস। এর মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা কমবে, জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছাবে। এর ফলে বছরে অতিরিক্ত ২৪ লাখ টন ধান ও প্রায় ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।জুনায়েদ সাকি জানিয়েছেন, এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। তবে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও এত বড় প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে একনেক সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, ফারাক্কা বাঁধ–এর প্রভাবে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে সারা বছর সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা