প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ যাচ্ছে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে
সাদী মোঃ হিমেল, পিরোজপুর ||
পিরোজপুরের কৃষি খাতে বোম্বাই মরিচ চাষ এক নতুন বিপ্লব ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সুন্দর ঘ্রাণ এবং তীব্র ঝালের জন্য পরিচিত এখানকার বিশেষ 'ঘৃতকুমারী' প্রজাতির বোম্বাই মরিচ এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) ও নাজিরপুর উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার এখন স্বাবলম্বী।পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহমুদকাঠি এবং নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোর ও বৈঠাকাটাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে এই মরিচের চাষ হচ্ছে। ২০১১-২০১২ সালে প্রথমবারের মতো জাপান দিয়ে রপ্তানি শুরু হলেও বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ টন বোম্বাই মরিচ বিদেশে পাঠানো হচ্ছে, যা থেকে আয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা।স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বোম্বাই মরিচ চাষে খরচ ও পরিচর্যা খুবই কম। কৃষক মাহমুদ হোসেন জানান, একটি গাছ থেকে বছরে ৩০০ থেকে ১০০০টি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায় এবং একবার রোপণ করলে দুই থেকে তিন বছর ফল দেয়। বর্তমানে মৌসুমে প্রতিটি মরিচ পাইকারি বাজারে ২-৩ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী বিপ্লব বিশ্বাস জানান, তারা মাঠ পর্যায় থেকে মরিচ সংগ্রহ করে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও ঠাটারি বাজারে সরবরাহ করেন, যেখান থেকে এগুলো বিদেশের বাজারে পাঠানো হয়।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, বোম্বাই মরিচ একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। একটি গাছ একটানা ৭-৮ মাস ফলন দেয়। কৃষকদের আগ্রহ যেভাবে বাড়ছে, তাতে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পেলে সরাসরি বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্বল্প বিনিয়োগে উচ্চ মুনাফা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ এখন জেলার অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা