প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
নোয়াখালীতে লোডশেডিং চরমে, দিনে বিদ্যুৎ মিলছে ৫–৬ ঘণ্টা
মাহবুবর রহমান, নোয়াখালী প্রতিনিধি ||
তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নোয়াখালীর সাধারণ মানুষ। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনের বড় একটি সময় লোডশেডিংয়ের মধ্যে কাটাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যও।বিশেষ করেজেলার সেনবাগ, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলায় লোডশেডিং এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগে অভিযোগ করেও কোন কার্যকর সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। কর্মকর্তারা।এর জন্য মূলত জ্বালানি ও তেলের সংকটকে দায়ী করছে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ।জানা যায়, নোয়াখালীর ৯টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ৯ লাখ গ্রাহক বর্তমানে চাহিদার তুলনায় নামমাত্র বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের মতে, জ্বালানি সংকটে উৎপাদন কমে যাওয়ায় কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। নোয়াখালী জেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য মতে জেলায় মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ১৮০ -১৯০ মেগাওয়াট চাহিদা রয়েছে তার বিপরীতে সরবারাহের গড়ে ২৫% কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে। এ দিকে পিডিবি কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলা শহরের বিদ্যুতের ৮০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা একেক সময় একেক মেগাওয়াট চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে আজ (শনিবার) সকালে ২৩ মেগাওয়াট চাহিদা রয়েছে যা পুরোপুরি সরবারাহ হচ্ছে । আর বিকালের পর থেকে ৩০-৩৫ মেগাওয়াট চাহিদা থাকে তখন সেখানে সরবরাহ কিছুটা কম থাকে।এ দিকে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ সমস্যায় পড়ছে চাটখিল ও সেনবাগের বাসিন্দারা। চাটখিলের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় আমরা বড়জোর ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। একবার বিদ্যুৎ আসার পর মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিট থাকে, এরপরই আবার চলে যায়।’চাটখিল বাসিন্দা নাহার আক্তার বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। অসুস্থ বাচ্চা গরমে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বমি আর পাতলা পায়খানায় অবস্থা নাজেহাল।’ সেনাবগের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘দিনের বড় একটা সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কিছুক্ষণ থাকলে এর পরে আবার যে লোডিং হয় তা দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং তৈরি করে। বিশেষ করে ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে ২ ঘন্টা লোডশেডিং।’ বিদ্যুতের এমন আসা-যাওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। সেনবাগের এক ভুক্তভোগী গ্রাহক জানান, ‘কারেন্ট আসে ১০ মিনিটের জন্য, আর থাকে না ৩ ঘণ্টা। অফিসে ফোন দিলে কেউ রিসিভও করে না।’আরেক গ্রাহক আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাতে কারেন্ট থাকে না, অথচ মাস শেষে ঠিকই বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করছি।’ সেনবগাের ওয়ার্কশপ কারখানা মালিক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যার কারণে আমরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না। সময় মত ডেলিভারি দিতে পারছি না। এভাবে চললে আমাদের শ্রমিকদের বেতন দেব কীভাবে?’ কোম্পানিগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎতের ভয়াবহ অবস্থা চাহিদার ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।ব্যাবসা-বাণিজ্য,শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া,সবকিছুতেই সাধারণ নাগরিকদের অবস্থা দুর্বিসহ হয়ে উঠছে।’তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নোয়াখালীর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের।এসএসসি পরীক্ষার্থী হোসনেয়ারা জানান, ‘সন্ধ্যার পর আমাদের পড়ার সময় অথচ সে সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে আমাদের পড়ালেখা করাটা একটু কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ বিদ্যুতের এই লুকোচুরি থেকে রেহাই পাচ্ছে না চাটখিল ও সেনবাগের হাসপাতালগুলোও। দিনে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করায় গরমে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের অবস্থা ভালো না। এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎতের জিএম সারোয়ার জাহানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের চাহিদার তুলনায় ২৫% কম বিদ্যুৎ সরবারাহ হচ্ছে। বিস্তারিত জানতে হলে আমাদের জনসংযোগ কর্মকর্তার সাথে কথা বললে সব তথ্য পাওয়া যাবে।নোয়াখালী জেলা পিডিবির কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার বলেন, বর্তমানে চাহিদার আলোকে বিদ্যুৎ সরবারাহ এখন পর্যন্ত ভালো আছে। তবে বিকাল থেকে সন্ধ্যার সময় চাহিদা বেশি থাকায় একটু লোডশেডিং হয়।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা