প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
কেন ইউসুফ (আ.)-কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন ইয়াকুব (আ.)
নিউজ ডেস্ক ||
হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর ১২ সন্তানের মধ্যে হজরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন বিশেষ গুণের অধিকারী। শৈশবেই মা হারানোর কারণে ইউসুফ (আ.) এবং তার ছোট ভাই বিন ইয়ামিনকে কিছুটা বেশি স্নেহ করতেন পিতা ইয়াকুব (আ.)। তবে এই স্নেহ কেবল পার্থিব কোনো মমতা ছিল না, বরং এর পেছনে ছিল গভীর আধ্যাত্মিক কারণ।পিতার এই অতিরিক্ত স্নেহ ইউসুফ (আ.)-এর বাকি ১০ ভাই সহজভাবে নিতে পারেননি। তারা ক্রমেই ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ওঠেন এবং ষড়যন্ত্রের জাল বোনেন। একদিন খেলার ছলে ইউসুফ (আ.)-কে দূরে নিয়ে গিয়ে একটি অন্ধকার কূপে ফেলে দেন তারা। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন ইয়াকুব (আ.)। দীর্ঘদিনের বিলাপ ও চোখের পানিতে এক সময় তিনি তার দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেলেন।পবিত্র কোরআনে সন্তান-সন্ততিকে ‘ফিতনা’ বা পরীক্ষা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। পার্থিব মোহে মগ্ন হওয়া নবীদের শানের পরিপন্থী। তবে ইয়াকুব (আ.) কেন একজন সন্তানের জন্য এতটা ব্যাকুল ছিলেন?বিখ্যাত মুফাসসির কাযী সানাউল্লাহ পানিপথী (রহ.) ‘তাফসীরে মাযহারী’তে এই প্রশ্নের চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি হজরত মুজাদ্দিদে আলফেসানী (রহ.)-এর একটি বিশেষ বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন: সংসার ও পার্থিব উপকরণের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা নিন্দনীয় হলেও, যা কিছু পরকালের সাথে সম্পর্কিত, তার প্রতি ভালোবাসা মূলত পরকালেরই মহব্বত।ইউসুফ (আ.)-এর প্রতি ইয়াকুব (আ.)-এর টান কেবল শারীরিক রূপ-সৌন্দর্যের জন্য ছিল না। বরং ইউসুফ (আ.)-এর মধ্যে ছিল পয়গম্বরসুলভ চারিত্রিক পবিত্রতা ও খোদাপ্রদত্ত বিশেষ নূর।পণ্ডিতদের মতে, ইয়াকুব (আ.) তার দিব্যচক্ষু দিয়ে বুঝতে পেরেছিলেন যে, ইউসুফ (আ.) আল্লাহর একজন মনোনীত নবী হবেন। তাই ইউসুফ (আ.)-এর প্রতি তার এই অগাধ ভালোবাসা ছিল মূলত আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত এবং নবুওয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা ও মহব্বত। এটি কোনোভাবেই সাধারণ কোনো মোহ ছিল না, বরং ছিল পরকালীন সফলতারই অংশ।পরবর্তীতে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর আল্লাহর কুদরতেই পিতা-পুত্রের মিলন ঘটে এবং ইয়াকুব (আ.) তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান যা আজও মুমিনদের জন্য ধৈর্য ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কাইয়ুম তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা