প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
ফুয়েল কার্ডের নিয়ম মানছে না কেউ, রয়েছে কর্তৃপক্ষের অবহেলাও
মোঃ মিনারুল ইসলাম, চুুয়াডাঙ্গা ||
জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলা ও অনিয়ম রোধে চুয়াডাঙ্গায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশনা কার্যকরের প্রথম দিনেই চরম অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয়েছে। পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন থাকলেও গ্রাহক, পাম্প কর্তৃপক্ষ কিংবা তদারকির দায়িত্বে থাকা পুলিশ কাউকেই কার্ড ব্যবহারের নিয়ম মানতে দেখা যায়নি।জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করার কথা নয়। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার ২২টি পাম্পের চিত্র ছিল ভিন্ন: কার্ডহীন সরবরাহ: পাম্পগুলোতে ভিড় করা অধিকাংশ মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালক কার্ড ছাড়াই তেল নিচ্ছেন।ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতি: প্রতিটি পাম্পে তদারকির জন্য একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে কোনো পাম্পেই তাদের দেখা মেলেনি।লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রশাসনের লোক ও পাম্পের পরিচিতরা নিয়ম ভেঙে আগে তেল নিয়ে যাচ্ছেন।তেল নিতে আসা তানভির রহমান নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “ভোরবেলা এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দুই ঘণ্টা পর ৫০০ টাকার তেল পেলাম, কিন্তু পাম্পে ফুয়েল কার্ডের কোনো কড়াকড়ি দেখলাম না।”রুহুল আমিন নামে অপর এক গাড়িচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কষ্ট করে নিয়ম মেনে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করলাম। কিন্তু এখানে কার্ডের কোনো ব্যবহারই নেই। পরিচিতরা এদিক-ওদিক থেকে ঢুকে তেল নিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছি।”কৃষিকাজের গুরুত্ব বিবেচনায় বর্তমানে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা রাখা হলেও পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে কার্ড বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিক উজ জামান বলেন: “জেলার ২২টি পাম্পে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কার্ডধারীদের তেল দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এই কার্ডে পূর্বের ক্রয়ের তথ্য থাকায় তেলের অপচয় ও অবৈধ বিক্রি বন্ধ হবে। সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”উল্লেখ্য যে, এই কার্ড পেতে চালকদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কপি জমা দিতে হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে ইতিমধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের প্রথম দিনে তদারকির অভাবে এই মহতী উদ্যোগটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রকাশক: শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক: ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি, হাউস-২, রোড-৬, ব্লক-কে, আফতাবনগর, ঢাকা ১২১২।
কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা