ফরিদপুর শহরের থানা মোড় এলাকায় অবস্থিত জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও যুবলীগের দলীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে জেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ কর্মসূচি পালিত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কার্যালয়ে হঠাৎ এ ধরনের আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের আলো ফুটতেই কয়েকজন নেতা-কর্মী কার্যালয়ে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি সংগঠনের দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, জেলা যুবলীগের সদস্য হিমেল মাহাফুজ, ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত) সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ,সাবেক সহ-সভাপতি কাওসার আকন্দ,সাবেক সহ-সভাপতি ও যুবলীগ নেতা দেবাশীষ নয়নসহ আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পতাকা উত্তোলনের সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর আবহ লক্ষ্য করা যায়। তারা দলীয় স্লোগান দেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এ কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। থানা মোড় এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাজনীতি থাকবেই, কিন্তু নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে এমন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে।”
অপরদিকে এক তরুণ পথচারীর মত, “অপরদিকে ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া এক তরুণ পথচারী বলেন, “রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার সবারই আছে। তবে তা যেন প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনা মেনে হয় এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।”
উক্ত বিষয় সম্বন্ধে উল্লেখ না করলেও উক্ত ঘটনার পরে শুক্রবার দুপুরের দিকে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কিবরিয়া স্বপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বার্তায় লিখেন, ''ফরিদপুরের প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কারনেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটা গনতান্ত্রিক সরকারের অগ্রগতি ব্যাহত করতে বিশেষ মহল সক্রিয় হচ্ছে। সকল গনতান্ত্রিক শক্তি কে সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইনভঙ্গের ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যালয়কে কেন্দ্র করে এমন কর্মসূচি ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। ফলে বিষয়টি এখন কেবল একটি পতাকা উত্তোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা রূপ নিয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনায়।

